আগে জাওয়ান দেখব, পরে অন্তর্জাল: সুনেরাহ

কয়েক দফা মুক্তি পিছিয়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সাইবার থ্রিলার নিয়ে নির্মিত দেশের প্রথম সিনেমা ‘অন্তর্জাল’। এতে রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়ম চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। তার বিপরীতে দেখা যাবে সিয়াম আহমেদকে।

আট সেপ্টেম্বর মুক্তির কথা থাকলেও এখন তা দুই সপ্তাহ পিছিয়ে গেল। এতে খানিকটা খারাপ লাগছে অভিনেত্রীর। তার ভাষ্যে, ছবি মুক্তির বিষয় তো আর শিল্পীর হাতে থাকে না। একজন শিল্পী হিসেবে আমার চাওয়া ছবিটা যেন একদম সম্পূর্ণ হয়ে সঠিকভাবে, ভালো সিনেমা হলে মুক্তি পায়। একটা ছবির সঙ্গে অনেকের অনেক পরিশ্রম জড়িত থাকে। দর্শকরা দেখলেই তাদের সেই পরিশ্রম সার্থক হয়।

তার মানে কি বলতে চাচ্ছেন ছবিটার কাজ অসম্পূর্ণ ছিল? সুনেরাহ বলেন, ‘অসম্পূর্ণ আগে ছিল, এখন না। এখন মুক্তি পেছানোর কারণ তো প্রযোজক, পরিচালক জানিয়েছেনই সবাইকে। যেহেতু ‘জাওয়ান’ মুক্তি পাচ্ছে দেশে, দেশের সব ভালো সিনেমা হল সেটাকে বুকিং দিচ্ছে। এ সময় আমাদের সিনেমা মুক্তি দিলে সেটা খুব বেশি বা ভালো হল পাবে না। ‘অন্তর্জাল’ সিনেমার আউটপুট খুবই ভালো হয়েছে। দর্শক যদি ঠিকঠাক শো না পায় তাহলে এখন এই সিনেমা মুক্তি দিয়ে তো কোনো লাভ নেই। দর্শক একটা ভালো সিনেমা থেকে বঞ্চিত হবে। সেদিক থেকে এই পেছানোটা বেশ যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।’

এর ফাঁকে সুনেরাহ জানান, তিনি শাহরুখ খানের বড় ভক্ত। যদি একই দিনে ‘জাওয়ান’ এবং ‘অন্তর্জাল’ মুক্তি পেত তাহলে আপনি কোনটা আগে দেখতেন, এমন প্রশ্নে নায়িকা বলেন, ‘আমি শাহরুখ খানের অনেক বড় ভক্ত। তার পরও একই দিনে ছবি মুক্তি পেলে আমার নিজের ছবিটিই আগে দেখতাম, এরপর শাহরুখেরটা। কিন্তু এখন তো আমাদের সিনেমা পিছিয়ে গেল তাই ‘জাওয়ান’ আগে দেখা হবে।’

ছবিটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছবিতে আমার চরিত্রের নাম প্রিয়ম, যে কি না একজন রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার। সে ভীষণ বুদ্ধিমতী, সাহসী, রাগী এবং কঠোর পরিশ্রমী এক তরুণী। সে কীভাবে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেশকে বাঁচায়, সেটা দেখা যাবে। এখনকার তরুণ-তরুণীরাই তো আগামীর ভবিষ্যৎ। আর এখন সময়টা হচ্ছে ইন্টারনেট যুগের। এখনকার সবকিছুই কিন্তু ইন্টারনেটভিত্তিক, আমরা যা কিছু করি। সাইবার যুদ্ধ ঠেকাতে তরুণ-তরুণীদের আরও স্মার্ট হতে হবে।

আমার জন্য চরিত্রটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং এবং মজারও। নতুন কিছু শিখতে আমার বেশ ভালো লাগে। ন ডরাই, মশারিতে কাজ করে যেমন অনেক কিছু শিখেছি তেমনি এখানেও। গ্রিন স্ক্রিনে কাজ করা, রোবোটিকস ল্যাবে কাজ করাসহ অনেক কিছুই। রোবোটিকস সম্পর্কে জেনেছি, কীভাবে কাজ করে সেসব জেনেছি, ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে দেখা করেছি। চরিত্রটার ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে যা দরকার ছিল সবই করেছি। এখানে আমার ফেভারে যেটা ছিল সেটা হচ্ছে প্রিয়ম মেয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড ইংরেজি মিডিয়াম। ইংরেজি উচ্চারণের কিছু ব্যাপার রয়েছে। আমি যেহেতু ইংরেজি মিডিয়ামের সেহেতু সেটা আমার জন্য সমস্যা হয়নি। ফ্লুয়েন্টলি বলা বেশ ইজি ছিল এবং সেটা ডাবিংয়ে দেখেও ভালো লেগেছে। আমার কাছে বেশ মজা লেগেছে কাজটি করতে গিয়ে।’

সিনেমাটিতে দুই নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম এবং আপনি। কাজটি করতে গিয়ে কি কখনো তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়েছে? সুনেরাহ বলেন, ‘একদমই না। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি যে, এ রকম একটা টিমের সঙ্গে কাজ করেছি। সিনেমা কখনই একজনের হয় না। এটা একটা টিমওয়ার্ক। এখানে যারা কাজ করেছেন প্রত্যেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সবাই অনেক কষ্ট করেছেন, পরিশ্রম করেছেন। সবাই সবার জায়গা থেকে যখন শতভাগ অ্যাফোর্ট দিয়ে কাজটা করবেন তখনই কিন্তু একটা ভালো সিনেমা হয়। সিনেমা যদি একজনকে দিয়েই হতো তাহলে এত মানুষ নিয়ে কাজ করত না।’