যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলের অভিশাপে নতুন মাত্রা

হেরোইন-কোকেনের মতো মাদকে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ভয়াবহতার দিক দিয়ে এই দুই মাদককে ছাড়িয়ে গেছে ফেন্টানিল। এটি এক ধরনের সিনথেটিক মাদক যা হেরোইনের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এই মাদকের সঙ্গে এখন জাইলোজাইন নামে পশু চিকিৎসার একটি ওষুধের মিশ্রণ ঘটিয়ে সেবন করছে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকসেবীরা। এতে করে আগে থেকেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটানোর জন্য দায়ী ফেন্টানিলের বিপদের মাত্রা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ)। 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ট্রেসি ম্যাককান নামে এক নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে। যিনি সম্প্রতি ভয়ংকর মাদক ফেন্টানিলের নেশায় জড়িয়ে পড়েন। ভয়ংকর এই মাদক গ্রহণের ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে তাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র কয়েক সপ্তাহ ইনজেকশনের মাধ্যমে ফেন্টানিল গ্রহণের পর ট্রেসির হাত-পাসহ সারা শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। এরপর সেই ক্ষতগুলো আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে ওঠে। যার ভেতরে পুঁজ থাকলেও ওপরে খসখসে ও কালো চামড়া দেখা যায়। ফেন্টানিল মাদক সম্পর্কে যাদের জানাশোনা আছে, তারা বলছেন, এই মাদকের সঙ্গে এমন কিছু মেশানো হচ্ছে, যার কারণে শরীরে ভয়ংকর ও বেদনাদায়ক ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবেদন মতে, ট্রেসি কয়েক সপ্তাহ ধরে ইনজেকশনের মাধ্যমে যে ফেন্টানিল মাদক নিয়েছিলেন, তার সঙ্গে মিশ্রিত ছিল মূলত জাইলোজাইন নামে পশু চিকিৎসার একটি ওষুধ। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর ফিলাডেলফিয়ার অধিবাসী ট্রেসি। দেশের অন্যান্য বহু শহরের মতো এই শহরটিও মাদকের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই মেলে নানা ধরনের নানা নামের মাদক। মাদকের সেই তালিকায় সম্প্রতি যোগ হয়েছে জাইলোজাইন।

 রাস্তায় আর অলিগলিতে এটি ‘ট্রাঙ্ক’ বা ‘ট্রাঙ্ক ডোপ’ হিসেবেই পরিচিত। ট্রাঙ্ক শব্দটি ট্রাঙ্কুইলাইজার থেকে এসেছে। জাইলোজাইন সাধারণত পশু চিকিৎসায় বা পশুকে ট্রাঙ্কুইলাইজ বা অজ্ঞান করতে ব্যবহার হয়। কেউ কেউ একে ‘জোম্বি ড্রাগ’ও বলে। এটাকে ফেন্টানিল মাদকের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব বা ফলাফল আরও মারাত্মক হয়ে উঠেছে।