বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুরে কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে শ্যামপুর এলাকায় অবস্থিত দীপ্ত এপ্যারেল লিমিটেডের কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, আগস্ট মাসের বেতন আগামী ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধের দাবিতে দীপ্ত এপ্যারেল লিমিটেডের কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শ্রমিক। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের দুই জন কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ৫-৬ জন স্টাফকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সাভার জোনের সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর মো. আসাদ বলেন, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দীপ্ত এপ্যারেল লিমিটেড কারখানার সহকারি ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মারুফ, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর প্রদীপ ও নিরাপত্তা কর্মী সম্রাটকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকিদের নাম জানার চেষ্টা চলছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ৩-৪ দিন আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ দেখিয়ে গত আগস্ট মাসের বেতন আগামী ১০ তারিখের পরিবর্তে ১৮ তারিখে পরিশোধের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ চলে আসছিলো।
আঁখি আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, প্রতি মাসের ৮ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে আমাদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে গত ৩-৪ দিন ধরে কয়েক দফা কারখানার সাধারণ শ্রমিকরা দাবি আদায়ে কর্মবিরতি পালন করে। এ ঘটনায় হঠাৎ করেই মালিকপক্ষ গতকাল একদিনের জন্য কারখানাটি বন্ধ রাখেন।
অপারেটর শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারাখানার প্রবেশের পর কাজে যোগ দেয়। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক গতকাল কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চেয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের কথা কাটাকাটি হলে সকল শ্রমিকরা একযোগে কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, কারখানার মিড লেভেল কর্মীদের গত ৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের বেতনও পরিশোধ না করায় তারাও আজকে সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বাসায় ফিরে যায়।
শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে জানতে কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) মো. মামুন বলেন, কারখানায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০০ কর্মী রয়েছে। বেতন নিয়ে কারখানাটিতে সমস্যা রয়েছে, কারখানার অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলাও চলছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।