রাজবাড়ী 

ধলতা না দেওয়ায় পেঁয়াজ কেনা বন্ধ, কৃষকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া বাজারে ধলতা না পাওয়ায় পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এর প্রতিবাদে বাজারের অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কৃষকরা। এর আগে মঙ্গলবার বালিয়াকান্দির বহরপুর ও সোনাপুর বাজারেও পেঁয়াজ কেনা বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (৬ মে) সকালে কালুখালীর রতনদিয়া বাজারেও একই ঘটনা ঘটে। পরে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। 

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাটবাজারে পণ্য বিক্রির সময় ধলতার নামে প্রতি মণে ৩ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন কৃষকরা। 

গত ২৭ এপ্রিল ধলতা প্রথা বন্ধের দাবিতে পাংশা উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ‘বাংলাদেশ কৃষক সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে একই দিন সন্ধ্যায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর পেঁয়াজ ও আমসহ কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ধলতা বা ‘শুকনা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া বন্ধে নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কালুখালী ও পাংশা উপজেলা প্রশাসন মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালায়। গত সোমবার বালিয়াকান্দি উপজেলা মিলনায়তনে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করে প্রশাসন, যেখানে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়ীরা প্রতি মণে ৪২ কেজি নির্ধারণের দাবি জানান। প্রশাসন এতে সম্মতি না দেওয়ায় মঙ্গলবার বহরপুর ও সোনাপুর বাজারে পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দেন তারা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা।

ইলিয়াস খা নামে এক কৃষক বলেন, ‘হাটবাজারে ধলতার নামে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত বেশি ফসল নেওয়া হয়। শুধু ধলতা নয়, ঝাড়ুদারের নামেও টাকা নেওয়া হয়। নিয়মিতভাবে আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতারিত হচ্ছি। সরকার যে আদেশ দিয়েছে, আমরা তার বাস্তবায়ন চাই।’

কোরবান শেখ নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘কালুখালীর কিছু হাটে ধলতা নেওয়া বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বস্তায় একটি পচা পেঁয়াজ পেলেই প্রতি মণে অন্তত পাঁচ কেজি কেটে নিচ্ছে। আমরা সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার চাই। কোনো পণ্যে আর ধলতা দিতে চাই না। আমাদের উৎপাদিত ফসল যেন নির্বিঘ্নে বিক্রি করতে পারি, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করা হয়েছে এবং বাজারে গিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আবার বসব। কৃষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত