আজ টিকে থাকার লড়াই বাংলাদেশের

দুই দিকে চোখ রেখে আজ ম্যাচে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আকাশে আর মাঠে! মানে কলম্বোয় বৃষ্টির পূর্বাভাসে আজ ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার ভয় থাকছে। আবার মাঠের লড়াইয়ে লঙ্কানদের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতা দূর করার চ্যালেঞ্জও থাকছে। বৃষ্টিতে হাত নেই কারও, তাতে ম্যাচ ভেস্তে গেলে দুর্ভাগ্য দুই দলের জন্যই। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়টা নিজেদের। এই দিকটিতে উন্নতি করার পথও বের করতে হবে সাকিবদেরই। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য আজ বাঁচা-মরার ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে না জিতলে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

এশিয়া কাপে এবার রোলার কোস্টারে চড়েছে বাংলাদেশ। তা ব্যাটিং বিভাগ থেকে। গত ৩১ আগস্ট টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজে ব্যাটিংয়ের উদাহরণ দেন সাকিবরা। হার দিয়ে সেই মাশুল দিতে হয়। পরের ম্যাচে ৩ সেপ্টেম্বর সেই ব্যাটাররাই দেখিয়ে দিলেন জয়ের পথ। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদি হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে বি গ্রুপ থেকে আগেভাগে সুপার ফোর নিশ্চিত করে ফেলে বাংলাদেশ। এই ব্যাটাররাই আবার একই মাঠে (লাহোর) পাকিস্তানি পেসারদের সামলাতে না পেরে দলীয় রান রেটের বারোটা বাজানো হার হজম করে। এমন অবস্থা থেকে ফাইনালে পা রাখতে হলে পরের দুই ম্যাচ জয় ছাড়া উপায় নেই।

সামনের দুই ম্যাচই তাই বাংলাদেশের জন্য অলিখিত সেমিফাইনাল। শুরুতে শ্রীলঙ্কা, যারা ঘরের মাঠে এই সময়ে দারুণ শক্তিশালী দল। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দলটির রেকর্ডও দারুণ। আর পরের ম্যাচ তো টুর্নামেন্টের ফেভারিট ভারতের সঙ্গে। আপাতত ভারতকে নিয়ে অবশ্য না ভাবলেও চলছে। প্রথমে প্রথম হার্ডল পার করা চাই। সংবাদ সম্মেলনে আসা বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানালেন বিপক্ষ দল নিয়ে নয়, তাদের ভাবনা ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে।

যে কারণে তিন ম্যাচে হার দেখতে হয়েছে দুবার। হাথুরু বলেন, ‘গত ম্যাচগুলোতে কী হয়েছে তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছি। এর আগে কিন্তু আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছিলাম। দুই-তিন ম্যাচ ধরে আমাদের ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে হচ্ছে। এই কন্ডিশন বদলটা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আমরা নিজেদের বলেছি যে এর থেকেও ভালো করার সামর্থ্য আমাদের আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অধারাবাহিকতা, যেটা সত্যিই এখন একটা চিন্তার কারণ। টিম মিটিংয়ে আমরা এ নিয়ে বড় আলোচনা করেছি, অবশ্যই সামনের ম্যাচে এ ব্যাপারটা কাটিয়ে উঠতে পারব।’

ধারাবাহিক হওয়ার জায়গাটাতে বারবার ধাক্কা খেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। শুরুর ব্যাটাররা রান না পেলে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত ও বদলি ওপেনার হেমেদি হাসান মিরাজ দুই সেঞ্চুরি করে নির্ভার রেখেছিলেন পুরো দলকে। কিন্তু শান্ত ইনজুরিতে পড়ে ফিরেছেন দেশে আর মিরাজ পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাকে ফেরায় হয়তো ওপেনার থেকে আবার সাত নম্বরে ফিরতে যাচ্ছেন এই ম্যাচে। কাল কলম্বোতে বৃষ্টি ছিল না। তাই পিচ দেখতে এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব। অবশ্য বিজয় যে নাঈম শেখের সঙ্গে ওপেন করতে নামবেন, এমন ভাবারও কারণে নেই। আবার জটিলতা বাড়িয়ে টানা সুযোগ পাওয়া নাঈমও বসে যেতে পারেন বেঞ্চে। সবটাই এক ধাঁধা রেখে দিলেন হাথুরু তার উত্তরে, ‘আপনি কি দলের পরিকল্পনার কথা আমাকে বলতে বলছেন? অবশ্যই এটা সম্ভব না। কলম্বোতে গত কিছুদিনে অনেক কিছু হয়েছে। পিচ কাভারের নিচে ছিল, আবার সূর্যের তাপ পেয়েছে, তো সবকিছু আমাদের ভাবতে হবে। সব মিলিয়ে আমরা কাল (আজ) মাঠে এসে সিদ্ধান্তটা নেব। দলে থাকা ১৭ জন ক্রিকেটারেরই সুযোগ আছে সেরা একাদশে খেলার।’

বাংলাদেশের মতো জয় নিয়েই সুপার ফোরে পা রেখেছে শ্রীলঙ্কা। এই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে অবশ্য আগের জয়ের আনন্দ তারা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি হয়তো। ২০০৩ বিশ^কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অঙ্কে ভুল করার মাশুল দিয়ে জয়ের টার্গেট পড়তে পারেনি আফগানরা। তাদের হৃদয়বিদারক হার উপহার দিয়ে তাই সুপার ফোরে এসেছে শ্রীলঙ্কা। ওই ম্যাচে তিনশো ছোঁয়া লক্ষ্য দিয়েও আফগানদের আটকাতে পারেনি শ্রীলঙ্কার বোলিং লাইন। অবশ্য নিজেদের মাঠে এত রান হবেও না। এই ভাবনা নেই শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ কোনো দলেরই; বরং ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিং বিভাগই এই ম্যাচে জয়ের দিকে দুই দলের জন্য বেশি ভূমিকা রাখবে।

লঙ্কান হাথুরসিংহেও তাই কলম্বোর কন্ডিশন বোলার দিকে গুরুত্ব দিলেন বেশি, ‘লাহোর থেকে অবশ্যই এখানের কন্ডিশন ভিন্ন হবে। তাই দুই দলেই কম্বিনেশনে বদল আসবে। হতে পারে আবার না-ও পারে।’ দলে পরিবর্তন এলে তিন পেসারের পথ থেকে সরে আসতে পারে বাংলাদেশ। কলম্বোর উইকেটে তৃতীয় পেসারের চেয়ে একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার কার্যকর হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে শেখ মাহেদি আবারও দলে ফিরতে পারেন। আফিফ বা শামিম হোসেনকে তখন জায়গা ছাড়তে হতে পারে। এ ছাড়া ওপেনিংয়েও বদল দেখা গেলে অবাক করা কিছু হবে না।

এই মাঠেই ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই জয় বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় ওই টুর্নামেন্টের ফাইনালে। আজ একই ফল সাকিবদের এবারের এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে দেবে না যদিও, ভারত ম্যাচের আগে মনোবলে অবশ্যই বড় শক্তি জোগাবে। পাশাপাশি ফাইনালের পথেও এগিয়ে রাখবে কিছুটা।