কলেজছাত্রের খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে আসামিকে হত্যা

অবশেষে ১৪দিন পর অপহৃত চট্টগ্রামের রাউজানের সেই কলেজছাত্র শিবলী সাদিকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে লাশ নিয়ে ফেরার পথে সাদিক খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হেফাজত থাকা উমংচিং মারমা নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কদলপুর-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

২৭ আগস্ট রাতে রাউজান কদলপুরের একটি মুরগির খামার থেকে সাদিককে অপহরণ করা হয়। সে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শফির ছেলে। সে কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, কলেজছাত্র শিবলী সাদিক অপহরণের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার উমংচিং মারমাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার তথ্যমতে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুর্গম কদলপুর-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী পাহাড়ী এলাকায় অভিযানে গিয়ে সাদিকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি আবদুল্লাহ হারুন জানান, লাশ নিয়ে ফেরার পথে পঞ্চপাড়া গ্রামবাসী অবরোধ সৃষ্টি করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্ত উমংচিং মারমাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও।

শিবলীর চাচা নাজিম উদ্দিন জানান, অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার দু’দিন পর অজ্ঞাতস্থান থেকে ভিকটিম শিবলীর মায়ের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দেয় দৃবৃর্ত্তরা। এ সময় ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে তার মায়ের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে তারা।

গত ১ সেপ্টেম্বর তার বাবা মুহাম্মদ শফি ‘অপহরণকারীদের’ কথা মতো পার্বত্য বান্দরবান জেলা সদর এলাকায় দুজন লোকের কাছে দুই লাখ টাকা দেন। এরপর অজ্ঞাত ওই দুই ব্যক্তি ভিকটিম শিবলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সে বাসায় ফিরে যাবে বলেও তার বাবা শফিকে জানান। কিন্তু টাকা দেয়ার পরেও শিবলী বাড়ি ফিরে আসেনি। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে অপহরণকারীরা।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরের দিন মামলা করতে গেলে নেয়নি রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন। সেদিন পরিবারের কাছ থেকে শুধু একটি জিডি গ্রহণ করে পুলিশ। ঘটনার ১১দিন পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা নেয় পুলিশ।