শাকিবের অতিরিক্ত দাবিতে নির্মাতার আক্ষেপ

বহু জনপ্রিয় সিনেমার নির্মাতা বদিউল আলম খোকনের পরিচালনায় ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’, ‘ভালোবেসে মরতে পারি’, ‘একবার বলো ভালোবাসি’, ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’, ‘বস নম্বর ওয়ান’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘হিরো: দা সুপারস্টার’সহ বেশ কিছু ছবি সুপারহিট। গত ঈদুল ফিতরের আগে খোকন নতুন ছবি ‘নীল দরিয়া’তে অভিনয়ের জন্য সেই শাকিব খানকেই চূড়ান্ত করেন। সে সময় পারিশ্রমিক বাবদ ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় নায়ককে। ছবির শুটিং শিডিউল ছিল ২০ জুলাই থেকে। পরিচালক শুটিংয়ের সব প্রস্তুতি নিলেও ‘প্রিয়তমা’ ছবির কারণে শুটিং পিছিয়ে যায় ‘নীল দরিয়া’ ছবির। তাড়াহুড়া করে ‘প্রিয়তমা’ নির্মাণ করে ২৯ জুলাই ঈদুল আজহায় মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর ছবিটি সুপারহিট হয়ে যায়। ‘প্রিয়তমা’ সুপারহিট হওয়ার পর শাকিব খান তার পারিশ্রমিকও বাড়িয়ে দেন। কয়েক মাস আগেও ৩৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ছিল শাকিবের পারিশ্রমিক। ‘প্রিয়তমা’ মুক্তির পর এখন ছবিপ্রতি চাইছেন ১ কোটি টাকা। আর এতেই ‘নীল দরিয়া’ ছবিটি আটকে গেছে। শতভাগ পারিশ্রমিক নিয়েও ছবির কাজটি করতে চাচ্ছেন না শাকিব খান। এখন ‘নীল দরিয়া’ তৈরি করতে হলে ৪০ লাখ টাকার সঙ্গে আরও ৬০ লাখ যোগ করে দিতে হবে এমনটিই দাবি করছেন শাকিব খান। ফলে ছবিটি আর হচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, পারিশ্রমিক বাবদ তাকে দেওয়া ৪০ লাখ টাকা শাকিব খান প্রযোজককে ফেরতও দিয়েছেন। বদিউল আলম বলেন, ‘আমরা যখন টাকাটা শাকিব খানকে দিই, ওই সময় ৩৫ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে পারিশ্রমিক ছিল শাকিবের। আমরা বরং বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। ২০ জুলাই থেকে শুটিংয়ের শিডিউল দিয়েছিলেন। সেভাবে লোকেশনসহ শুটিংয়ের সব প্রস্তুতি নেওয়া ছিল আমার। কিছুদিন পর হঠাৎ করেই শাকিব জানান, ঈদুল আজহার জন্য ‘প্রিয়তমা’ করে পরে এই ছবি করবেন। আমিও মেনে নিলাম। ঈদে ‘প্রিয়তমা’ হিট হয়ে গেল। শাকিব মত পাল্টালেন, পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিলেন। আগের চূড়ান্ত করা পারিশ্রমিকেও এখন কাজ করতে চাচ্ছেন না। এখন তাকে নিয়ে কাজ করতে হলে আগের ৪০ লাখের সঙ্গে অযৌক্তিকভাবে আরও ৬০ লাখ দিতে হবে। কিন্তু আমরা যখন তার সঙ্গে কাজের ব্যাপারে চূড়ান্ত করি, তখন যে পারিশ্রমিক ছিল, সেটি দিয়েই তাকে চূড়ান্ত করেছিলাম।’ এই পরিচালক আফসোস করে আরও বলেন, ‘এখন নতুন কোনো ছবিতে চুক্তি করতে তিনি এক কোটি বা দুই কোটি নিতেই পারেন। কিন্তু আমরা তো আগের পারিশ্রমিকে চূড়ান্ত করেছি তাকে। এখন শাকিব আমাদের ছবির টিমের সঙ্গে এই দাবি করতে পারেন না। এটি কোনো নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। কমিটমেন্ট ঠিক না থাকলে তো হবে না। এটি অন্যায়।’