জলবায়ু তহবিলে ১ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি মাখোঁর

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ সফরের সময় জলবায়ু তহবিলে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী একনেকে জানিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ দিয়েছেন। কারণ প্যারিস অ্যাকর্ড এটি নিয়ে সচেতন। এ তহবিল একবারে পাওয়া যাবে না। ধাপে ধাপে সিলিং আকারে দেবে তারা। বাংলাদেশ প্রকল্প দেবে, সে প্রকল্পের আলোকে সিলিং আকারে এ অর্থ আসবে।

ফ্রান্সের দেওয়া এ অর্থ কীভাবে কাজে লাগবে এর ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, আমাদের ডেল্টা প্ল্যান আছে। বন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় তাদের যে প্রকল্পগুলো নেবে। ডেল্টা প্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে যাতে সেগুলো অভারলেপিং না হয়, কোনো ক্ষতি যাতে না হয়। এখানে অগ্রাধিকার পাবে সুন্দরবন। সুন্দরবন আমাদের ঐতিহ্যের অংশ, আমাদের প্রাণ, তার সুরক্ষা করতেই হবে।

মাখোঁর বাংলাদেশে ৪ ঘণ্টা সফরের কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পরিবেশের প্রতি মুগ্ধ হয়ে তিনি ১৯ ঘণ্টা সফর করেছেন। তিনি চা-শিঙাড়া খেয়েছেন, গান শুনেছেন। তার সফরে আসা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়াবে বলে মনে করেন এম এ মান্নান।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) ফোরকাস্ট করে বলেছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম ২০টি অর্থনীতির একটি হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের ভোক্তা বাজার বিশাল। ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, ইত্যাদিতে সম্ভাবনা আছে।

মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, আমাদের নজরে আছে। আমরা আশা করছি টার্নিং এরাউন্ডে শিপটিংয়ে পৌঁছাতে পারব। আগস্টে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রধান নায়ক ছিল ডিম, মুরগি। ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, বৈঠকে ওয়াসার পানির উৎপাদন খরচের সমন্বয় করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে পানির অপচয় বন্ধ করতে বলেছেন। অনেকে পানির ট্যাপ ছেড়ে রাখেন এটা যেন না হয় সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্যাক্স সংক্রান্ত মামলা পড়ে আছে, এটাকে আইন মেনে ফয়সালা দিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, জলাভূমি অঞ্চলে সড়ক সংস্কার করতে হবে। পানির চাপ বাড়লে অধিক কালভার্ট ও ব্রিজ বানাতে হবে। সেতু বানালে উচ্চতা খেয়াল করবেন নকশা ভালো হতে হবে কাজ করতে গিয়ে।