অতিরিক্ত আমদানি শুল্কই দেশের রপ্তানি বৈচিত্র্যে প্রধান বাধা। এই শুল্ক বাধার কারণেই বিদেশি বিনিয়োগে গতিহীনতা এবং দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার।
গতকাল বুধবার ‘ট্যারিফ প্রটেকশন অ্যান্ড এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন আর নট মিউচুয়ালি এক্সক্লোসিভ, প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক একক বক্তব্যে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ বলে চিহ্নিত করেন তিনি।
সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন।
ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশের গড় আমদানি শুল্ক প্রায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ। আমদিানি শুল্কের এই হার বাংলাদেশের রপ্তানি ও বিনিয়োগ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। যেমন- ইন্দোনেশিয়ায় ৮, মালয়েশিয়ায় ৫ দশমিক ৬, ভিয়েতনামে ৯ দশমিক ৬, থাইল্যান্ডে মাত্র ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আমাদের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং প্রতিবেশি ভারতের ১৮ দশমিক ১ এবং শ্রীলংকায় ২২ দশমিক ৪ শতাংশ।’
তার মতে, ভারতের উদ্দেশ্য ভিন্ন। কারণ ভারতে প্রায় সব ধরণের শিল্প পণ্যের কাঁচামাল দেশে উৎপাদিত হয়। তাই আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কিছুটা উচ্চ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীর গড় আমদানি শুল্ক মাত্র ৬ শতাংশ। যারমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের গড় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের আমদানি শুল্কের গড় ৭ দশমিক ২ শতাংশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের গড় আমদানি শুল্ক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের দেশের গড় আমদানি শুল্ক মাত্র ২ শতাংশ।’
পিআরআই চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের দেশে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে শিল্পায়ন গড়ে তোলার কথা বলা হলেও নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তার উল্টো। আমাদের রপ্তানি পোশাকের কাঁচামাল আমদানিতে শূন্য শুল্ক। সেই সুবিধা নিয়ে দেশে পোশাক তৈরি করে তা বিদেশে রপ্তানি করছে। তৈরি পোশাক এককভাবে মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ ভাগ রপ্তানি করছে।
তিনি বলেন, এই সুযোগ অন্য কোনো খাতকে না দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে একক কোনো খাত থেকে ১০০ কোটি ডলারও রপ্তানি করতে পারছে না।