দেশি ক্রেডিট কার্ডের বেশি ব্যবহার ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-সৌদিতে

নগদ ডলারের সংকটের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। এক্ষেত্রে দেশের বাইরে লেনদেনে (ডলার) সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার হয়েছে ভারতে। চলতি অর্থবছরের জুন-জুলাই মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৯০০ কোটি টাকার সমপরিমাণের ডলার ব্যয় করেছেন বাংলাদেশিরা। এরমধ্যে শুধুমাত্র ভারতে ১৪৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে, যা বিদেশি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

ভারতের পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ সৌদি আরবে হয়েছে। মূলত এসব দেশের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কেনাকাটায় বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশি করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দুই মাসের ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে।

চলতি বছরের জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ লেনদেনে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীর পাশাপাশি রয়েছে বিদেশিরাও। গত জুলাইয়ে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ২ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, যা জুনে ছিল ২ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা।

গত জুলাইয়ে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৫১২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, এ মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন বাড়ে ৩১ দশমিক ৮০ শতাংশ। যেখানে জুনে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৮৮ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে মার্চে দেশের অভ্যন্তরে বাইরে থেকে ইস্যু করা অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ২ শতাংশ। জুনে বিদেশি নাগরিকরা ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের করেছিল ১৯৫ কোটি টাকার, জুলাইতে যা কমে হয়েছে ১৯১ কোটি টাকা।

ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশি হয়েছে দেশের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। মোট ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে এর পরিমাণ ৫০ দশমিক ১১ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি লেনদেন হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোয়। এছাড়া আউটলেট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ৯ দশমিক ২০ শতাংশ ইউটিলিটি, ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ নগদ অর্থ উত্তোলন, ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ পোশাক কেনাকাটা, ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ ওষুধ ও ফার্মেসিতে, ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ ট্রান্সপোর্টেশন, ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ ব্যবসা সেবা, টাকা প্রেরণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে।

লেনদেনে কার্ডের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিসা কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এ সময়ে। এর পরিমাণ ৭৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে মাস্টার কার্ড, এ কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়া বাকি প্রায় ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে অন্যান্য কার্ডের মাধ্যমে।

এছাড়া দেশের ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের ক্রস বর্ডার লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মতো বিদেশেও একই ধরনের জায়গা ও প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার হয়েছে। জুলাইতে বিদেশে প্রায় ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ফার্মেসিতে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পোশাক কেনাকাটায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ট্রান্সপোর্টেশনে ৭ দশমিক ৯২ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

দেশভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বাইরে লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার হয়েছে ভারতে। এর পরিমাণ ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, অর্থের হিসাবে যা ৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া লেনদেনে অন্যান্য দেশ হিসাবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, সৌদি আরবে ১১ দশমিক ৪২, থাইল্যান্ডে ৯ দশমিক ২২, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ দশমিক ১১, সিঙ্গাপুরে ৭ দশমিক শূন্য ৭১, যুক্তরাজ্যে ৬ দশমিক ৯২, মালয়েশিয়ায় ৪ দশমিক ৪৮, কানাডায় ৫ দশমিক ৩১, নেদারল্যান্ডসে ২ দশমিক ৩৫, আয়ারল্যান্ডে ১ দশমিক ৯৫, অস্ট্রেলিয়ায় ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং অন্যান্য ১৬২ দেশে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মার্চের তথ্যে দেখা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছেন। যা প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং অর্থের হিসাবে এটি ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা, তাদের ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, ভারতীয় ১০ দশমিক ১৪, সিঙ্গাপুরের ৩ দশমিক ৬৮, চীনা নাগরিক ২ দশমিক ৩৩, কানাডীয় ৩ দশমিক ৫৭ এবং জাপানিজ ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।