পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আমরা বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করেছি। এখন বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমাদের জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ যুবগোষ্ঠী। সড়কে বিশাল অবকাঠামোয় নজর দিয়েছি। জলপথেও শক্তিশালী যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের যোগাযোগের হাব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘কমনওয়েলথ মিনিস্টারিয়াল প্যানেল : অ্যাটরাক্টিং ইনভেস্টমেন্ট, কমনওয়েলথ এক্সপারটাইজ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, বেজার চেয়ারম্যান ইউসুফ হারুনসহ, উগান্ডার বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বিদেশি কমনওয়েলথের সদস্যরা।
মন্ত্রী বলেন, আমরা বিডা, বেজাসহ সব সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ চাই। বিদেশি পুঁজিকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েই এখানে বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছি। শ্রম ছাড়া পুঁজি চলতে পারে না। শ্রমিকের যেন চলাচল মুক্ত হয়। পুঁজিবান্ধব আইন আছে, এটাকে সব সময় আরও উন্নত করার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, পাসপোর্ট-ভিসার জটিলতার মাধ্যমে এ সময়ে নিষ্ঠুরভাবে শ্রম দিতে হচ্ছে। কাজের জন্য গিয়ে ইউরোপে ভূমধ্যসাগরে শ্রমিকরা ডুবে মরছে। অর্থনৈতিক অভিবাসী তারা। পুঁজির যে বিশ^ায়ন হচ্ছে, শ্রমেরও যেন বিশ^ায়ন হয়। সে দিক থেকে বাংলাদেশ শক্তিশালী ভিসা ও পাসপোর্টের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত।
খাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের চামড়া, পাট, ইলেকট্রনিক ও ওষুধ শিল্পে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। ওষুধে ভালো ও দক্ষ কর্মী আছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশেষ করে যারা ক্যানসারের মতো উচ্চ পর্যায়ের ওষুধ তৈরি করেন তারা আসলে এখানে ভালো করবেন।
এ সময় বিডার চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ পরবর্তী চীন হতে যাচ্ছে। আমাদের মেধাবী জনগোষ্ঠী আছে। বিশে^র মধ্যে নবম শীর্ষ ভোক্তা বাজার আমাদের। আমাদের পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে ১৫০টি আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। এদেশ এখন সারাবিশে^র মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাছ উৎপাদনকারী দেশ। তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর আমাদের গেম চেঞ্জার হতে যাচ্ছে। জাইকার অর্থায়নে করা এ বন্দরের কার্যক্রম আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে আমরা পূর্ণভাবে শুরু করতে পারব।
সেমিনারে বেজার চেয়ারম্যান ইউসুফ হারুন বলেন, বাংলাদেশে এখন অর্থনৈতিক সংস্কার হচ্ছে। আমাদের এখন স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। বেজা সব বিনিয়োগকারীদের সমানভাবে সুযোগ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সারাদেশের ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমাদের অর্থনৈতিক জোনগুলো তেরি হচ্ছে। এরমধ্যে চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল জিটুজি ভিত্তিতে হচ্ছে। ভারত, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে বিনিয়োগ করেছে।
একই দিনে ‘ব্যাংকিং অ্যান্ড প্রফেশনাল সার্ভিসেস : এনহেন্সিং এক্সেস’ শীর্ষক আরেকটি প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, করপোরেট সুশাসন খুবই জরুরি। কারণ অন্য গ্রাহকরা হ্যাসেল ফ্রি সেবা প্রত্যাশা করেন।
ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ বর্ণনা করতে গিয়ে গভর্নর বলেন, সাধারণ প্রথাগত ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনেক কাগজপত্র দিতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেক জটিলতাও তৈরি হয়। আমরা ইতিমধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছি। অনেক আবেদনও পড়েছে। সেটি চালু হলে দেশের গ্রামের মানুষের সুবিধা হবে বেশি। কাগজপত্র ছাড়াই ঋণ নিতে পারবেন গ্রাহকরা। দেশের বড় আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো ক্রেডিট স্কোরিং।
কমনওয়েলথের দেশগুলোর উদ্দেশে আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, নলেজ শেয়ারিং ও প্রবলেম শেয়ারিং এখন এদেশগুলোর বাণিজ্য সম্প্রসারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এক্ষেত্রে কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মরিশাস স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও আবরার এ আনোয়ার বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য এখন ‘ব্যাংকিং এজ এ সার্ভিস’ ধারণার প্রসার লাভ করেছে। যেখানে স্টার্টআপ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, পিডাব্লিউসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন রশীদ, ক্রাউন এজেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা স্টিভেন মার্শেল, চার্লটনের পার্টনার জুলিয়া চার্লটন, ব্যাংকট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক আইসিল কাগলায়ান।