আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। আজকে যখন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনগুলো করছি, তখনই আবার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন হয়। এর অর্থটা কী?’ আগামী অক্টোবরে চলতি একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশন বসবে এবং এরপর নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশনে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ নেতা বলেন, ‘আজকে দেখি নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন নিয়ে সবাই খুব সোচ্চার। কিছু দেশ আমাদের দেশের নির্বাচন আর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। সেসব দেশের কাছে আমার প্রশ্ন, ১৯৭৫ সালের পর বারবার যে নির্বাচনগুলো হয়েছিল সেই ১৯৭৭ সালে ‘হ্যাঁ/না’ ভোট বা রাষ্ট্রপতি ভোট, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন, ১৯৮১ সালের নির্বাচন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অথবা ২০০১ সালের নির্বাচনে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অত্যাচার-নির্যাতন, সে সময় তাদের চেতনা কোথায় ছিল? সে সময় তাদের বিবেক কি নাড়া দেয়নি?’
তিনি বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারে এসেছে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নতি করছে। আওয়ামী লীগের আমলে এ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে সব স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এর চেয়ে বেশি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাংলাদেশে কবে হয়েছে বা পৃথিবীর কোন দেশে হয়ে থাকে? অনেক দেশের নির্বাচন তো এখনো তাদের বিরোধী দল মানেইনি, এরকমও তো ঘটনা আছে। তারপরও আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে অনেকের অনেক সবক শুনতে হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার, জনগণের ভাতের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছি আমরা। রাজপথে ছিলাম, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়েছি। সেই রক্তে রঞ্জিত শহীদদের তালিকা দেখলে আমাদের আওয়ামী লীগের এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামের তালিকাই পাওয়া যাবে। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের যে ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পেরেছি সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।’ আজকে যখন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই নির্বাচনটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।
বাজারে জিনিসপত্রের অভাব নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা মাঝেমধ্যে গুদামে পণ্য আটকে রেখে দাম বাড়ানোর খেলা চালায়।’ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
আট দিনে পাস ১৮ বিল : টানা ৯ কার্যদিবস চলার পর শেষ হলো একাদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশন। গতকাল রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে অধিবেশনের সমাপ্তির ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। এ অধিবেশন শুরু হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর। এ অধিবেশনে ৯ কার্যদিবসের মধ্যে প্রথম কার্যদিবস শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মুলতবি করা হয়। বাকি আট দিনে ১৮টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ নেতা শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর অধিবেশনের সমাপ্তি টানেন ডেপুটি স্পিকার।
এ অধিবেশনে সরকারি ৩৫টি বিল আসে। এর মধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর পাস হয় দুটি বিল, ৫ সেপ্টেম্বর দুটি, ৯ সেপ্টেম্বর দুটি, ১০ সেপ্টেম্বর দুটি, ১১ সেপ্টেম্বর দুটি, ১২ সেপ্টেম্বর তিনটি, ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি এবং শেষ দিনে গতকাল দুটি বিল পাস হয়েছে।
অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের অধিবেশন শুরু হয়েছিল ৩ সেপ্টেম্বর। আজ ১৪ সেপ্টেম্বর (গতকাল বৃহস্পতিবার) অধিবেশন শেষ হচ্ছে। ১৮টি বিল এ অধিবেশনে পাস হয়েছে। এখন পাসের অপেক্ষায় রয়ে গেছে পাঁচটি বিল। আশা করি আগামী যে অধিবেশন হবে সেখানে সেটা আমরা করতে পারব। তিনটি কমিটিও পুনর্গঠিত হয়েছে। স্থায়ী কমিটির ১৭টি রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম রিপোর্ট উপস্থিত হয়েছে ৩০টি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবারের অধিবেশন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অক্টোবরে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন হবে। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবর মাসে আরেকটা সেশন বসবে। সেটাই হবে আমাদের সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ অধিবেশন। এরপর নির্বাচন হবে। নির্বাচনে যদি জনগণ আমাদের আবার ভোট দেয়, আবার এদিকে (সরকারি দলের আসনে) আসব। না দিলে ওইদিকে (বিরোধী দলের আসনে) বসব। কোনো অসুবিধা নেই। জনগণের ওপরই আমরা সেটা ছেড়ে দিচ্ছি।’
জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে : বিরোধীদলীয় নেতা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে আমার দল জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। জাতীয় পার্টি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সব জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাস করি বলেই কখনই আমরা নির্বাচন বয়কট করিনি। গতকাল সংসদের ২৪তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন তিনি।