বেঁধে দেওয়া পেঁয়াজ, আলু, ডিমসহ তিনটি কৃষিপণ্যের দাম শক্তভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মন্ত্রণালয় এবং ঘাটতি জনবল থাকা সত্ত্বেও ভোক্তা অধিকার কাজ করছেন।’
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের নিজস্ব বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেঁধে দেওয়া পেঁয়াজ, আলু, ডিমসহ তিনটি কৃষিপণ্যের দাম শক্তভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকারের যথেষ্ট পরিমাণ লোকের অভাব রয়েছে।’
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। আমাদের বিশাল বাজার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গোলের কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে। সেটি কাভার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুবিধা নিচ্ছেন। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সব সময় ব্যবসায়ীদের যে চাপে রাখা যায়, তা কিন্তু নয়। আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার দিচ্ছি। এরপরেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া দাম ঠিক করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
দেশে উৎপাদিত ডিম ও আলুর দাম নির্ধারণ নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, যখন যে পণ্যের মজুদ কমে যায় তখন সেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করে সরকার। সেটা দেশি বা বিদেশি পণ্য হতে পারে। তিন পণ্যের বেঁধে দেওয়া দাম কার্যকর হবে। এখন থেকে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম হবে সর্বোচ্চ ১২ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৬ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা। কোনো কারণ ছাড়াই বাজারে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও রয়েছে। এখন ন্যায্য দাম কার্যকর হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সারা বছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করি না। দুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির বড় উৎসব। সারা বছর আমাদের যে পরিমাণ ইলিশ হয় তার থেকে আমরা শুভেচ্ছা স্বরূপ মাত্র দুই শতাংশ ভারতে রপ্তানি করি। মাছ রপ্তানির কোনো চিন্তা নেই। এটাকে রপ্তানি বলা যাবে না। শুভেচ্ছা টোকেন হিসেবে দেওয়া হয়। বছরে ছয় লাখ টন ইলিশ ধরা হয়। সেখান থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যা আমাদের দুদিনের উৎপাদনও নয়।