যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনের কিয়েভ ও লভিভের কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউনেস্কোর মতে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের দুটি শহরের প্রধান ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী কিয়েভের আইকনিক সেন্ট সোফিয়া গির্জা, শহরের কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠের মধ্যযুগীয় ভবন এবং লভিভ শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্র। স্থানগুলোকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত করার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ। এক বিবৃতিতে বিশ্বঐতিহ্য কমিটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, স্থান দুটি যুদ্ধের কারণে হুমকির সম্মুখীন হওয়ার ফলে সর্বজনীন মূল্যায়ন ও সুরক্ষার সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা পূরণ করছে না। শহর দুটিতে বোমা হামলার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর সুরক্ষায় একটি অনুস্মারক এবং আরও আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
ইউনেস্কো ইউক্রেনে রাশিয়ার বোমাবর্ষণের বরাবরই সমালোচনা করে আসছে। সংস্থাটি লভিভের ঐতিহাসিক পুরনো শহরের ঠিক বাইরে একটি ভবনে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে রাশিয়া জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেছে, ‘তাদের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিচ্ছে।’ যদিও এই ক্ষয়ক্ষতির দায় বিতর্কিত।
লভিভ শহরটি মধ্যযুগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৩ থেকে ২০ শতক পর্যন্ত প্রশাসনিক, ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এর বেশিরভাগ স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। এটি ১৯৯৮ সালে বিশ্বঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হয়। আর ১১ শতকে নির্মিত কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল, আধুনিক তুরস্কের আয়া সোফিয়াকে টক্কর দিতে ডিজাইন করা হয়েছিল। সেই সময়ের টিকে থাকা কয়েকটি ভবনের মধ্যে এটি একটি।
বর্তমানে ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের তালিকায় বিশ্বের ৫০টির বেশি স্থান রয়েছে।