প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন আজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। আগামী মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উচ্চ-পর্যারের প্রথম দিনের বিতর্কে যোগ দেবেন তিনি। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংষের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যসহ বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন তুলে ধরবেন। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, নিরাপদ অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ন্যায্যতাও তার ভাষণে স্থান পাবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে সংস্থার সদর দপ্তরে জমায়েত হচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হলো, ‘বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক সংহতি পুনর্নির্মাণ : সবার জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও স্থায়িত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে ২০৩০ এজেন্ডা এবং এর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসংক্রান্ত ত্বরান্বিত কর্মপন্থা’।

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এবং বর্তমান সংসদের সময়ের মধ্যে এটিই হবে শেখ হাসিনার শেষ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক ও বিতর্কে অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দিতে পারেন।

মোমেন জানান, সফরকালে বাংলাদেশ এবং হাঙ্গেরি, কাজাখস্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সব দিক থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউ ইয়র্ক সফর গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, অধিবেশনে এবং অধিবেশনের সাইড লাইনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে পশ্চিমাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তারা বলছেন, সরকারপ্রধান অবশ্যই এই বিষয়ে নিজের তথা নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে চার ঘণ্টা যাত্রা বিরতির পর ফ্লাইটটি নিউ ইয়র্ক সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাল সোমবার নিউ ইয়র্কের রকফেলার সেন্টারে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা-ইউএনআইডিও এবং বাণিজ্য পরামর্শদাতা সংস্থা ডেলয়েট আয়োজিত ‘খাদ্যের জন্য চিন্তা খাদ্য সরবরাহ চেইন উদ্ভাবনের জন্য এসডিজিকে ত্বরান্বিত করার জন্য সহযোগিতা’ শীর্ষক একটি উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মূল বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই দিনে তিনি ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে ‘এসডিজি সামিট-লিডার্স’ ডায়ালগ-৪ (এসডিজি অর্জনের জন্য সমন্বিত নীতি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা) শীর্ষক আরেকটি সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈশ্বিক শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ দূত ও বিশ্ব স্বাস্থ্য অর্থায়নের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাষ্ট্রদূত গর্ডন ব্রাউন ও নিউ ইয়র্কের লেক্সিংটন ভেন্যুতে গ্লোবাল বিজনেস কোয়ালিশন ফর এডুকেশনের এক্সিকিউটিভ চেয়ার সারাহ ব্রাউন আয়োজিত জাতিসংঘের ২০২৩ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) শীর্ষক সম্মেলন উপলক্ষে একটি উচ্চ-পর্যায়ের ব্যক্তিগত নৈশভোজে যোগ দিতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ প্রধানের আমন্ত্রণে ‘ক্লাইমেট অ্যাম্বিশন সামিট’ শীর্ষক একটি উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা এবং ‘হাই-লেভেল ব্রেকফাস্ট সামিট অন ক্লাইমেট মবিলিটি’সহ কয়েকটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি দূর করতে বিশ্ব নেতাদের কাছে তার পরামর্শ তুলে ধরবেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার সরকারের পদক্ষেপও তুলে ধরবেন। কানাডা, গাম্বিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে আয়োজিত সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ‘কমিউনিটি ক্লিনিকে শেখ হাসিনার উদ্যোগ : মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধীসহ সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ অর্জনে উদ্ভাবনী পদ্ধতি’, ‘মহামারী প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া’, সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং বাংলাদেশে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার সরকারের ব্যাপক সাফল্য তুলে ধরবেন।

মোমেন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে সমাদৃত হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যা বিষয়ক উপদেষ্টা, নবনির্বাচিত ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) মহাপরিচালক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।