অ্যামনেস্টির বিবৃতি

ইউনূসের মামলা মানবাধিকারের বিপর্যস্ততার প্রতীক

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিবৃতি দিয়েছে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং সর্বশেষ মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের শীর্ষ দুজনের কারাদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের কর্র্তৃপক্ষকে অবশ্যই শ্রম আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ‘ড. ইউনূসের মামলাটি বাংলাদেশের মানবাধিকারের বিপর্যস্ত অবস্থার প্রতীক। যেখানে কর্র্তৃপক্ষ স্বাধীনতা খর্ব করেছে এবং সমালোচকদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বাস করে, নাগরিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ইস্যুগুলোর জন্য মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করা শ্রম আইন এবং বিচারব্যবস্থার চরম অপব্যবহার ও তার কাজ এবং ভিন্নমতের জন্য রাজনৈতিক প্রতিশোধের একটি রূপ। আইনের অপব্যবহার এবং প্রতিহিংসা নিষ্পত্তির জন্য বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এখন সময় এসেছে সরকারের ন্যায়বিচারের এই পরিহাস বন্ধ করার।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে যে অস্বাভাবিক গতিতে বিচার চলছে তা বাংলাদেশের অন্যান্য শ্রম অধিকার সম্পর্কিত আদালতের মামলার সম্পূর্ণ বিপরীত। যারা শ্রম অধিকার লঙ্ঘন করছে তাদের নিঃসন্দেহে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তবে মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি করার জন্য শ্রম আইন ও ফৌজদারি বিচারের অপব্যবহার না করে কর্র্তৃপক্ষের উচিত অনিরাপদ কারখানার মতো শ্রম অধিকারের প্রতি ব্যাপক হুমকি মোকাবিলার দিকে মনোনিবেশ করা। যে বিষয়গুলো বাংলাদেশের হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।