গাড়ি থামিয়ে গুলি শীর্ষ সন্ত্রাসীকে পথচারী গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় প্রাইভেট কার আরোহী এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পরে তারিক সাঈদ মামুন (৫৪) নামে ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া এক মোটরসাইকেল আরোহী গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও এক পথচারী। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সিটি পেট্রোলপাম্প ও বিজি প্রেসের মাঝামাঝি এলাকার মূল সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলা এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি। আহত অন্য দুজন হলেন আরিফুল হক ইমন (৩০) ও ভুবন চন্দ্র শীল (৫২)। মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায় গুলি লেগেছে। তাকে ঘটনার পরপরই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেলে এসে মামুনকে বহনকারী প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে এক মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী আহত হন। মামুন প্রাইভেট কার থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টার সময় তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও মামুন গ্রুপের বিরোধে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এখনো পুলিশ হামলাকারীদের কাউকে আটক করতে পারেনি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মগবাজার এলাকার  পিয়াসী বার থেকে বের হয়ে মামুন, খোকন ও মিঠু প্রাইভেট কারে মামুনের তল্লাবাগের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সিটি পেট্রোলপাম্প ও বিজি প্রেসের মাঝামাঝি প্রধান সড়কে পৌঁছলে চারটি মোটরসাইকেলে করে সাত-আটজন প্রাইভেট কার থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। মামুনসহ অন্যরা তাৎক্ষণিক প্রাইভেট কার থেকে নেমে পড়লে মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা মামুনের পিঠে ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। মামুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে কোথায় আছেন তা জানা নেই। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।’

ভাবি জয়শ্রী রানী জানান, আহত ভুবন চন্দ্র শীলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। আরামবাগে একটি মেসে থাকেন তিনি। ধানম-ির পপুলার হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন জড়িত থাকতে পারে। তারিক সাঈদ মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি। প্রায় ২০ বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হন তিনি। ইমনও একই মামলার আসামি। ইমন বর্তমানে কারাগারে আছে। জেলে থাকা অবস্থায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে হুমকি দিয়েছিলেন ইমন। তার লোকজন মামুনের ওপর হামলা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনা বিস্তারিত তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে সবকিছুই বেরিয়ে আসবে।

পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মামুনের বিরুদ্ধে আলোচিত হিমেল হত্যা, রহিম হত্যা, আদালত চত্বরে মোর্শেদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে। এর মধ্যে মোর্শেদ খুনের মামলায় মামুনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান।’

১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে। ঘটনার পর তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে বাদানুবাদই এ হত্যার নেপথ্য কারণ বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।