বৈশ্বিক মন্দা কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

বিশ্বের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্পেন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস অ্যা ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমডিবি (বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক), আইএফআই (আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান) এবং বেসরকারি ঋণদাতা সংস্থাগুলোকে তাদের অগ্রাধিকারগুলো পুনরায় সাজাতে হবে এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করতে হবে।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্পব্যয়ে, রেয়াতি হারে তহবিলের পর্যাপ্ততা প্রয়োজন এবং পছন্দসই উচ্চমানের বিপুল পরিমাণে অনুদান এবং সমস্ত ঋণদানের উপকরণগুলোতে দুর্যোগের ধারা থাকতে হবে, যাতে দুর্বল দেশগুলো সংকটকালের ধাক্কা সামলাতে পারে।

চতুর্থ দফা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঋণদাতাদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে ন্যায্য ও কার্যকর ঋণ হিসেবে ত্রাণব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পঞ্চম এবং শেষ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটার পরিবর্তে এসডিআর ঋণের সীমা প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে সহজ ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটি বর্তমানে অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্য তহবিলের সুবিধা সীমিত করেছে।

তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে একমত যে বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত। বর্তমান রেটিং সিস্টেম অনেক নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের জন্য তহবিলের সুবিধাকে আরও সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে।

বাইডেনের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেন। ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। বাইডেন ৭৮তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্কে আসা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে এ ভোজসভার আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) থিম্যাটিক অ্যাম্বাসাডর সায়মা ওয়াজেদ এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ড. হোসে রামোস হোর্তা ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন ব্যস্ততা নিয়ে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এতে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর জোর দেন এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও অপসারণে বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার প্রথম মেয়াদে সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশ পরমাণু অপ্রসারণ চুক্তি ও ব্যাপক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি অনুমোদন করে।

তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং সাভার নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য আইএইএকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নাগরিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তাগিদ দিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এ বৈঠক হয়।

গত মঙ্গলবার আজরা জেয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।