গত দুই বছরে তিন দফা আবেদন করেও সরকারি বাসা বরাদ্দ পাননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন ও মিন্টো রোডের যে কোনো সরকারি বাসা চেয়েছিলেন। কিন্তু নিয়ম নেই দেখিয়ে সে আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কারও জন্য সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম নেই। তাদের উচিত নিজেদের আবাসন নিজেদের ব্যবস্থা করা। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য মেনে নিতে নারাজ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বলেছে, এই মুহূর্তে তাদের সুযোগ নেই। কিন্তু সুযোগ নেই কথাটা বলার কোনো অর্থই হয় না। কারণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যরা বিভিন্ন জায়গায় সরকারি বাসা পাচ্ছেন। তারা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা কেন পাবেন না? তারা ইচ্ছে করলে দিতে পারে।’
বিএসএমএমইউয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি বাসা বরাদ্দ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গত দুই বছরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তিন দফা আবেদন করেছেন। প্রথম আবেদন করেন গত বছরের জানুয়ারিতে। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানে তাকে একটি সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে ‘ভুল হয়েছে’ কারণ দেখিয়ে সে বরাদ্দ বাতিল করে মন্ত্রণালয়। কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয় জানায়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি আবাসনের সুযোগ নেই।
পরে চলতি বছরের এপ্রিলে ফের আরেক দফা আবেদন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য। তাতেও কাজ না হওয়ায় এ মাসের প্রথম সপ্তাহে আরেকটি আবেদন করেন। কিন্তু এ দফায় ‘সম্ভব না’ বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, ‘আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমি এটা করব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উপাচার্যদের জন্য। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি নেই, আর্থিক অবস্থাও ভালো না। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে কোনো সরকারি বাসভবনের ব্যবস্থা করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই ভালো হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে এলে তার সঙ্গে কথা বলব।’
এই তিন দফার আবেদনে ধানমন্ডি এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন ও মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন উপাচার্য। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই ইস্কাটনে সরকারি বাসা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সেখানে যে কোনো একটি বাসা আমরা পেতে পারি। আমরা এটাও চেয়েছিলাম। সেটাও যদি না হয় এলিফ্যান্ট রোড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি সরকারের অনেক বাসা আছে। ইচ্ছে করলে কোনো একটি জায়গায় দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা একটি বড় বাসায় থাকেন। যে বাসার নিচে অফিস থাকে, ওপরে বাসা থাকে। তারা বাসার মধ্যেই মিটিং করেন। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসা একটি বিরাট কমপ্লেক্স। রাজশাহী ও সিলেটেও উপাচার্যদের বাসভবন একই রকম। শুধু বিএসএমএমইউতে নেই। কারণ জায়গা নেই। আর আগের উপাচার্যরা কেউ চেষ্টা করেননি। চেষ্টা করলে হয়তো আশপাশে কোথাও দিয়ে দিত। এমনকি মিন্টো রোডেও হয়ে যেত।
বিএসএমএমইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কারও জন্যই আবাসনের কোনো সুবিধা নেই। উপাচার্য বর্তমানে ধানমন্ডিতে নিজের বাসায় থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কর্মকর্তারাও নিজেদের বাসায় বা ভাড়া বাসায় থাকেন।