পশ্চিম এশিয়া তথ্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় বাহরাইন ও আরব আমিরাত, যা আব্রাহাম চুক্তি হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল এই দুই আরব দেশ ছাড়াও বাকি আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো। যদিও ইতিমধ্যে জর্ডান ও মিসরের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক আছে ইসরায়েলের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আশা ছিল তেল আবিবের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো। সাম্প্রতিক সময়ে সেই আশায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। সৌদি আরবও চাইছে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে। আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বললেও কাক্সিক্ষত শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় সংকটের সমাধান এখনো হয়নি। সেই সংকট হলো ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, স্বাধীনত রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের অস্তিত্বকে বারবার অস্বীকার করে আসার ইসরায়েলি প্রবণতা। অথচ আব্রাম চুক্তি করা বাহরাইন-আমিরাত কিংবা এই দুই দেশের আগে জর্ডান, মিসরও দাবি করেছিল ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরাতেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে তারা। কিন্তু বাস্তবে সেই শান্তি আর আসেনি।
এখনো প্রায় প্রতিদিন ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের, হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বাণিজ্যে, স্বাধীন চলাফেরায় এমনকি পবিত্র আল আকসায় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকারও মাঝেমধ্যে খর্ব হচ্ছে। এই যখন পরিস্থিতি তখন ফের আরব বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সৌদি আরবও বলছে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। এবার বিশ্বমঞ্চে সব পক্ষকে নিজেদের প্রাপ্য মনে করিয়ে দিলেন ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে আব্বাস বলেন, ‘যারা মনে করেন ফিলিস্তিনি জনগণের প্রাপ্য পূর্ণ ও বৈধ জাতীয়তার অধিকার ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিরাজ করতে পারে, তারা ভুল করছেন।’ এই সতর্কবাণীর পাশাপাশি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ এবং বিশ্বের দেশগুলোকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের প্রতি একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আয়োজনের আবেদন জানান মাহমুদ আব্বাস। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দেশের অংশগ্রহণে এই সম্মেলন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সম্মেলনের আয়োজন করলে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে পৌঁছানো যাবে। ভবিষ্যতের পরিস্থিতি যেন আরও অবনতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমার বার্তা হলো তাদের উচিত পূর্ণ সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণ এবং ফিলিস্তিনের অধিকার আদায় সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা।
প্রসঙ্গত, ‘প্রতিনিয়তই সৌদি আরব ও ইসরায়েল পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে’, গত বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এমন মন্তব্য ফের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দুটি অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হতে যাচ্ছে, তা ছাপিয়ে ফিলিস্তিন কী পাবে, ইরান কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে এমন আলোচনা শুরু হয়। এসব দিকের চেয়ে আপাতত সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কেই বেশি মনোযোগী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মোড়ল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় বিগত কয়েক মাস ধরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আলোচনা চালাচ্ছে রিয়াদ ও তেল আবিব। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থেই’ এ দুই দেশের মৈত্রী তাদের কাছে ভীষণ জরুরি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘আমরা কোন পথে যাচ্ছি তা বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে আমরা আশা করি এটি আমাদের এমন একটি জায়গায় পৌঁছে দেবে, যা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে সহজ করবে এবং ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তি হিসেবে স্বীকার করে নেবে।’