লিভারজনিত জটিলতায় শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় প্রায় তিন ঘণ্টা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়। এরপর তাকে আবার কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থার কথা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) সিসিইউ ও কেবিনে আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাকে দুপুর ১২টার দিকে কেবিন থেকে করোনারি সিসিইউতে নেওয়া হয়। পরে আবার ৩টার দিকে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। এর আগে গত রবিবার রাত ২টার দিকে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সাত ঘণ্টা পর তাকে আবার কেবিনে নেওয়া হয়।
গতকাল বিকেলে উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটজনক।’ অবিলম্বে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার যদি সুচিকিৎসা না হয়, তাকে যদি বিদেশে পাঠানো না হয় চিকিৎসার জন্য, তাহলে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কারাবন্দিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নজির দেশেই রয়েছে। সব বন্দিকে চিকিৎসা দিতে হবে এবং চিকিৎসার জন্য যদি প্রয়োজন হয় তাকে বিদেশেও পাঠাতে হবে। বারবার তার (খালেদা জিয়া) পরিবার থেকে, তার ডাক্তাররা এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি যে, মানবিক কারণে তাকে চিকিৎসার স্বার্থে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হোক।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাহেবকে পাঠানো হয়েছিল। জিয়াউর রহমান তাকে জার্মানি পাঠিয়েছিলেন কারাগার থেকে। আজকে যিনি জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন সেই শেখ হাসিনাকেও কেয়ারটেকার সরকারের সময়ে চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। আমরা সেই কথা ভুলে যাইনি।’
গত ৯ আগস্ট রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে তিনি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। এখন তার লিভার, হৃদযন্ত্র ও কিডনির সমস্যা জটিল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় গতকাল বাদ জুমা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসহ দুটি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাজা হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেড়ে ১০ বছর হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আরও সাত বছরের সাজা হয়।
২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দ- ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। সেই থেকে তিনি গুলশানের বাড়িতে রয়েছেন। প্রতি ছয় মাস পরপর সরকার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে।