উচ্চমাধ্যমিকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ। এই ঋণের উদ্দেশ্য হলো, কভিডের সময় শিক্ষা খাতের হওয়া ক্ষতি কমিয়ে আনা, অনলাইন ক্লাসের সক্ষমতা বাড়ানো, শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়ানো এবং উচ্চমাধ্যমিক থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমানো। গতকাল শনিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদোলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের নিম্নমাধ্যমিক স্কুলগুলো শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে। কয়েক বছরে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এদিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা করে যাবে। একই সঙ্গে মানসম্মত ও কার্যকর শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে একটি উন্নত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বিশ্বব্যাংক।

‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নের একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল বিষয় বাংলা, গণিত ও ইংরেজি শিক্ষার উন্নতিতে কাজ করা হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের দক্ষতা ২৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা, বাংলার দক্ষতা ৬৬ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা।

বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঝরে পড়ার হার কমাতে ৮০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় যৌন হয়রানি ও প্রতিরোধ কমিটি নিশ্চিত করবে। আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০টি স্কুলে পড়ার দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রকল্পটি কাজ করবে এবং ১৫ হাজার শিক্ষক তাদের শেখানোর দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রকল্পের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংকেও সহায়তা করবে এবং কমপক্ষে চিহ্নিত ৩০ শতাংশ বিদ্যালয়ে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে প্রকল্পটি কাজ করবে। প্রোগ্রামটি উপবৃত্তির বাইরেও অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কভিডে যারা বাদ পড়েছে, তাদের পুনরায় ভর্তি হতে সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ুঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হলেও মিশ্রিত শিক্ষা ট্র্যাকে শিখতে সাহায্য করবে। প্রোগ্রামটি জলবায়ু-স্মার্ট মানসিকতা এবং আচরণকে লালন-পালন করার জন্য পাঠ্যক্রমের মূলধারার জলবায়ু শিক্ষাও দেবে।’

৩০ কোটি ডলারের এই ঋণ বিশ্বব্যাংকের আইডিএ প্রকল্প থেকে দেওয়া হচ্ছে। ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ এই ঋণ শোধ করতে হবে ৩০ বছরে।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকে এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি ৪০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান, সুদমুক্ত ও রেয়াতি ঋণ দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৬টি চলমান প্রকল্পে মোট ১৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতিসহ বিশ্বের বৃহত্তম আইডিএ প্রোগ্রাম রয়েছে।