সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় বাঁশখালীর হাসানকে খুন করে ১০ টুকরা করার মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী ও বড় ছেলের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহান। রবিবার দুপুরে শুনানি শেষে তিনি এই আদেশ দেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হাসান আলী (৬২) বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়ার সাহেব মিয়ার ছেলে। যাদের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন, নিহত হাসানের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, হাসান আলী খুনের মামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তার স্ত্রী ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আজ রবিবার আদালতে আবেদন করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিহত হাসান আলীর আরেক ছেলে শফিকুর রহমানসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান পিবিআই কর্মকর্তা ইলিয়াস।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় খালের কাছ থেকে একটি লাগেজে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই লাগেজে হাসানের মরদেহের ৮ টুকরা পাওয়া যায়। পরের দিন একই জায়গা থেকে মাথাসহ আরও দুই টুকরা উদ্ধার করে পিবিআই। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, পিবিআই আঙুলের ছাপ নেওয়ার পর লাশের পরিচয় নিশ্চিত হয়। গত শনিবার সকালে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে হাসানের স্ত্রী ও বড় ছেলেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলীর স্ত্রী ও সন্তানেরা স্বীকার করেন, ২৭ বছর হাসান পরিবারের বাইরে ছিলেন। এক বছর আগে তিনি পরিবারে ফিরে আসেন। আসার পর থেকে গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর বড়তলীতে থাকে থাকা সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন সন্তানেরা। কিন্তু লিখে না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ছোট ছেলের বাসায় ডেকে এনে পরিবারের সবাই মিলে হাসানকে হত্যা করেন।