অবশেষে দুই মাস পর মত বদল হলো ফ্রান্সের, নাইজার থেকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নাইজারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর দেশটির সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বিবিসি।
গত ২৬ জুলাই ফ্রান্সের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নাইজারের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে ফ্রান্স। এরপর গত আগস্টের শেষের দিকে নাইজারে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সামরিক জান্তা। তা সত্ত্বেও নাইজারে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি ওই সময় নাকচ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানিয়ে দেন, তাদের কূটনীতিক নাইজারেই থাকবে। তবে সেই সিদ্ধান্তে আর অটল থাকতে পারল না ফ্রান্স। গত রবিবার ফ্রান্স তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের পাশাপাশি নাইজারের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করবে বলে ঘোষণা দেন মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স (নাইজার থেকে) তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের রাষ্ট্রদূত এবং বেশ কয়েকজন কূটনীতিক ফ্রান্সে ফিরে আসবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাইজারের সঙ্গে সামরিক “সহযোগিতার” অবসান হয়েছে এবং ফরাসি সেনারা “আগামী মাসগুলোতে” দেশে ফিরে আসবেন।’
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নাইজারের সামরিক সরকার। বার্তা সংস্থা এএফপিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জান্তা বলেছে, ‘এই রবিবার আমরা নাইজারের সার্বভৌমত্ব অর্জনের নতুন একটি পদক্ষেপকে উদযাপন করছি।’
বিবিসি বলছে, স্থলবেষ্টিত পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটিতে প্রায় দেড় হাজার ফরাসি সৈন্য রয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের জেরে রাজধানী নিয়ামেতে নিয়মিত বিক্ষোভসহ পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশে ফরাসি উপস্থিতির বিরুদ্ধে কয়েক মাসের বিদ্বেষ এবং বিক্ষোভের পরে প্যারিসের সিদ্ধান্তটি সামনে এলো।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেছেন, তিনি এখনো নাইজারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাজুমকে তার দেশের ‘একমাত্র বৈধ ক্ষমতাসীন নেতা’ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং তাকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ‘জিম্মি’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
নাইজার পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কয়েকটি সাবেক ফরাসি উপনিবেশের মধ্যে একটি, যেখানে সামরিক বাহিনী সম্প্রতি ক্ষমতা দখল করেছে। এর আগে বুরকিনা ফাসো, গিনি, মালি এবং চাদেও সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলে নিয়েছে। আর সর্বশেষ অভ্যুত্থান হয়েছে গ্যাবনে গত আগস্টে।
নাইজারে অভ্যুত্থানের পর ফ্রান্স এবং পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক জোট ইকোয়াস দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে রকম কিছুই হয়নি।