সাধারণত কারাগার অপরাধীদের অপছন্দের জায়গা, কারণ এখানে তাদের আটক রেখে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু খোদ কারাগারই অপরাধীদের দখলে এসে বিলাসবহুল হয়ে উঠতে পারে, এমন নজিরও দেখা গেল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়। দীর্ঘদিন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দখলে থাকা আরুগুয়া রাজ্যের তকোরোন কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকার। গত শুক্রবার এটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শনিবার সেখানে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে কারাগারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ নামের একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্র। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে চক্রটির সদস্য রয়েছে। তারা এটিকে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। চলতি সপ্তাহে কারাগারটিতে অভিযান চালায় দেশটির কয়েক হাজার সেনা। কারাগারটি বর্তমানে ফাঁকা। সেখানে থাকা ১ হাজার ৬০০ বন্দিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এক বন্দির স্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বাইরের চেয়ে কারাগারের জীবন ছিল তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের ও নিরাপদ।’
সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কারাগারটির ভেতরের অবস্থা দেখার সুযোগ পান সাংবাদিকরা। গত শনিবার প্রায় ৩০ জন সাংবাদিককে কারাগারটির নির্দিষ্ট কিছু এলাকা অল্প সময় ঘুরে দেখানো হয়।
অপরাধী চক্র দ্বারা কারাগার পরিচালনা করা খুব অস্বাভাবিক নয় ভেনেজুয়েলায়। টকোরোন কারাগার দেশটির সবচেয়ে কুখ্যাত এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা প্রতীক হিসেবে তা পরিণত হয়েছিল। ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী চক্র ট্রেন ডি আরুগা। সম্প্রতি এ চক্রের কর্মকাণ্ড কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও আর্জেন্টিনায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।