নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ভয় দেখায় ফখরুল : কাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, কী আশ্চর্য কথা, নিষেধাজ্ঞার ভয় আমাদের দেখায় মির্জা ফখরুল। আমেরিকা মনে হয় তাকে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে। ভয় দেখানোর এজেন্সি দিয়েছে মির্জা ফখরুলকে।’ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা পুরনো বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত ‘শান্তি সমাবেশে’ এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপি দেশজুড়ে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে এর প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় কেউ কর্ণপাত করে না বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলা, গ্যাবন ও সুদানে দেশটির আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। কিন্তু দেশগুলো তাতে কর্ণপাত করেনি, এমনকি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাতেও অনেক দেশ গা করে না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান প্রমুখ। বাংলাদেশ কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা মানে না বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন,            ‘বাংলাদেশ চলবে সংবিধান অনুযায়ী। একাত্তরে আমাদের হারাতে পারেনি, আজও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শেখ হাসিনাকে থামানো যাবে না। আমরা কারও নিষেধাজ্ঞা পরোয়া করি না।’

বিএনপির জনসভায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বক্তৃতা করতে দাঁড়ালেই মির্জা ফখরুলের চোখে শুধু কান্না। কান্নায় কান্নায় বুক ভেসে যায়। কত মানুষকে কাঁদিয়েছেন আপনারা। কত মায়ের বুক খালি করেছেন, মানুষকে কাঁদিয়েছেন। এখন নিজেরা কাঁদে।’

তিনি বলেন, ‘আরও কান্না আছে, কাঁদতে কাঁদতে বাংলাদেশ কান্নার দরিয়া হয়ে যাবে, তবুও আপনাদের ক্ষমা নেই। পিতৃহত্যা, মাতৃহত্যার প্রতিশোধ আমরা নেব। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে, খুনিদের বিচার করেননি। আপনাদের ক্ষমা নেই। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ক্ষমা করবে না।’

বিএনপির ঢাকা দখলের হুঁশিয়ারির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা শহর নাকি দখল করবে। আমরা প্রস্তুত আছি, ঢাকা শহর কারা দখল করে? আমরাও প্রস্তুত আছি কারা দখল করবে দেখা যাবে। ঢাকা দখল করবে লাল-সবুজের পতাকা। লাল-সবুজের পতাকা হাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয়ের মিছিল এ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে চলবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাপ্টেন (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আছেন। জাতিসংঘের অধিবেশন শেষ করে ক্যাপ্টেন আসছেন। তৈরি হয়ে যান ট্রেনিং দিয়ে। জোরদার খেলা হবে।’

আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীদের কারও বাড়িতে, কারও গায়ে আঘাত করলে এবার পাল্টা আঘাত করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই এবার ছাড় দেওয়া হবে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আলটিমেটাম প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা আমাদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার জন্য ৪৮ মিনিটও আপনারা (বিএনপি) দাঁড়াতে পারেনি। সেই খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার দয়া ও মহানুভবতায় বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। আইনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী বলেছেন। আমি বলতে চাই খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যতটা কথা বলেছে, তার চেয়েও বেশি রাজনীতি করেছে। সেটাই তাদের উদ্দেশ্য।’

বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে কারা? একাত্তরের পরাজিত শক্তি। যারা সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল তারা তাদের সঙ্গে। জাতির পিতার খুনিদের সহযোগিতা করেছিল, সমর্থন করেছিল সেই শক্তি এখন একাত্ম হয়ে বাংলাদেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে এবং নির্বাচন বানচাল করতে চাচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার কিছু হলে তার দায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের : বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আপনারা নাটক করছেন। যদি মনে করেন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে হবে। তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছেন না কেন? তা না করে নাটকবাজি করছেন আপনারা। যদি খালেদা জিয়ার কিছু হয় তার দায়দায়িত্ব বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বহন করতে হবে। অন্য কারও নয়।’

ভিসানীতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘ভিসানীতির পরোয়া করে না এ দেশের মানুষ। আপনারা (আমেরিকা) যদি সত্যিকার অর্থেই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন দেখতে চান, তাহলে যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, নির্বাচন হতে দেবে না ঘোষণা দেয়, তাদের বলেন নির্বাচনে আসতে। সেজন্য ভিসানীতির প্রয়োজন পড়ে না।’