চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মাথায় ভারী কিছুর আঘাতে প্রাণ গেছে এক কিশোরের। তার নাম মো. জাহেদ হাসান (১৫)। এ ছাড়া সংঘাতে আহত হয়েছেন চার যুবক। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের আজমপুর বাজারে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
আজমপুর বাজার এলাকায় মাছের আড়তে পানি সরবরাহের কাজ করত নিহত কিশোর জাহেদ। তাকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। তবে স্বজনরা বলেছেন, জাহেদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিল না। দুই দলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে প্রাণ গেছে তার।
জানা গেছে, জাহেদ হাসান উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গুচ্ছগ্রামের মৃত নূর জামানের ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর মাসহ তারা তিন ভাই আজমপুর এলাকায় নানার বাড়িতে থাকে। তার বড় ভাইও একটি পানি বিক্রির দোকানে চাকরি করে। আর ছোট ভাইয়ের বয়স সাত বছর। সে পড়াশোনা করে।
সংঘর্ষে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন ওচমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. হাসান (২৮), যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লা আল মামুন (২৮) এবং ছাত্রলীগের কর্মী সায়েদ খান (৩৫) ও মিজানুর রহমান (৩২)।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রঘোষিত আগামী ৫ অক্টোবরের ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চ সফল করতে আজমপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনের বাড়িতে প্রস্তুতি সভা ডাকে বিএনপি। সভা শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা আজমপুর বাজার এলাকায় গেলে সেখানে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কিশোর জাহেদ দোকান থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে একটি পক্ষ। এতে সে অচেতন হয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্রলীগের সমাবেশে একতরফা হামলা চালানো হয়েছে। বিএনপি সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের নেতাকর্মীদের মেরে আহত করেছে। তারা ছাত্রলীগকর্মী জাহেদ হাসানকে পিটিয়ে মেরেছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ একাধিক নেতার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তারা কেউ রিসিভ করেননি।
তবে নিহত জাহেদ হাসানের চাচা আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ভাতিজা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। দুই দলের মারামারির বলি হয়েছে ছেলেটা।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক খন্দকার নোমান শায়রি বলেন, ‘আজমপুর বাজারে মারামারির ঘটনায় ওই কিশোরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। একই ঘটনায় আসা আরও চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
মিরসরাই থানার ওসি মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আজমপুর বাজারে দুপক্ষের মারামারিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।