সংকটে ঐকমত্যের আশায় ইইউ

ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার সময় চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৮০ জন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়। অথচ শরণার্থী সংকট সামাল দিতে এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেল বলছে, ইইউ দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা শরণার্থী সংকট সামলাতে গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে পারেননি। তবে এরপরও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশা বাড়ছে। ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে ইইউ।

সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, ইউরোপে শরণার্থীর ঢল কেবল বহির্সীমানার দেশের বা প্রবেশপথের দেশগুলোর হাতে ছেড়ে দিয়ে যে নিশ্চিন্তে বসে থাকে যায় না, ইইউর বাকি দেশগুলোও সেই সত্য বেশ জোরালোভাবে টের পাচ্ছে। কিন্তু শুধু নিজের ঘর সামলানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে হাঙ্গেরির মতো কিছু দেশের সরকার। সংকট সামলানোর সার্বিক সমাধানসূত্র হিসেবে শরণার্থীদের ন্যায্য বণ্টন অথবা শরণার্থী গ্রহণ না করার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সম্প্রতি নীতিগত ঐকমত্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের পথে একের পর এক দেশের বাধা সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর কালো ছায়া ফেলছে।

তবে শেষ মুহূর্তে মতপার্থক্য দূর করে অবৈধ অভিবাসন সামলানোর প্রশ্নে সত্যি ঐকমত্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ইলভা ইয়োহান্সসন।বৃহস্পতিবার ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে চূড়ান্ত ঐকমত্য সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বকেয়া বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির পর সদস্য দেশগুলো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে ইয়োহান্সসন আশা করেন।

শরণার্থী সংকটের বিষয়টি জাতীয়, আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় স্তরে ভোটারদের মনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করায় ক্ষমতাসীন দলগুলো যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে হাতেনাতে ফল দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠছেন শীর্ষ নেতারা। তবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দ্রুত আইন প্রণয়ন করলেও বাস্তবে শরণার্থী সংকট কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করছেন।

ইইউয়ের পরিকল্পনা মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে বলেও অভিযোগ উঠছে। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে চরম ডানপন্থি শক্তির হাত আরও শক্ত হলে শরণার্থী সংক্রান্ত নীতি আরও কঠোর রূপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।