দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম উচ্চগতির ট্রেন বা বুলেট ট্রেন চালু করল ইন্দোনেশিয়া। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। চীনের বেল অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৭৩০ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।
২০১৯ সালেই চালু হওয়ার কথা ছিল হাইস্পিড ট্রেনটি। কিন্তু ভূমি নিয়ে বিরোধ, করোনাভাইরাস মহামারি এবং প্রকল্পের ব্যয় ১২০ কোটি ডলার বেড়ে যাওয়ার কারণে পিছিয়ে যায় কাজ। এরপর গত রবিবার ট্রেনটি উদ্বোধন করার কথা ছিল ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর। কিন্তু তার সময়সূচি না মেলায় এক দিন পিছিয়ে গতকাল সোমবার উদ্বোধন করা হয়। ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাদের আশা, এই বুলেট ট্রেনে অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ছাড়া ট্রেনটি বিদ্যুতে চলবে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নির্গমন কমাতেও ইন্দোনেশিয়ার বড় অগ্রগতি এটি।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে দেশটির অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক শহর বান্দুং পর্যন্ত চলবে বুলেট ট্রেন। এই রুটের দূরত্ব ১৪২ কিলোমিটার। দ্রুতগতির এই রেলওয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘হুশ’, ইন্দোনেশীয় ভাষায় যার অর্থ সময় সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য। দেশটির তীব্র যানজট কমাতে এ ধরনের প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট বুলেট ট্রেনের নামকরণের ব্যাপারে বলেন, ‘আসলে দ্রুতগতির একটি ট্রেনের ছুটে চলার শব্দ থেকেই আমরা এর নাম রেখেছি হুশ।’
‘হুশ’ পরিচালনা করবে পিটি কেসিআইসি নামের একটি সংস্থা। ইন্দোনেশিয়ার চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও বেইজিংয়ের চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগ এটি নির্মাণ করা হয়েছে। পরামর্শক সংস্থা গ্লোবাল কাউন্সিলের বিশ্লেষক দেদি দিনার্টোর মতে, ইন্দোনেশীয় বুলেট ট্রেন মূলত ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। বুলেট ট্রেনের টিকিটের দাম এখনো চূড়ান্ত করেনি ইন্দোনেশীয় কর্র্তৃপক্ষ। তবে পরিচালনা সংস্থার অনুমান, এক পথের যাত্রায় এর টিকিটের দাম আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপিয়া (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা প্রায়) হতে পারে।