ই-কমার্সে শৃঙ্খলা ফেরাবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসক্রো সার্ভিস নামের যে বিশেষ সেবা চালু করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়নে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই এসক্রো বাস্তবায়ন কমিটিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এবং ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সোমবার এফবিসিসিআই ও ইক্যাবের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি ও ইক্যাবের সভাপতি শমী কায়সারের নেতৃত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ইক্যাবের পরিচালক ও অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ‘দারাজ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসফিন আলম, ই-ক্যাব পরিচালক মো. ইলমুল হক সজীব, অনন্য রায়হান প্রমুখ।

এ সময় শমী কায়সার বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের ই-কমার্স খাত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় ই-কমার্স খাতের সহযোগিতায় সবসময় পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

শমী কায়সার আরও বলেন, বৈশ্বিক মার্কেটে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের ই-কমার্স খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে পলিসি লেভেলে কিছু কাজ করতে চাই আমরা। এক্ষেত্রে ক্রস বর্ডার ই-কমার্স মোডিফিকেশন অত্যন্ত জরুরি। ই-কমার্স খাতে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে পলিসি সামিট করবে এফবিসিসিআই।

এ সময় ক্রেডিট কার্ডের ক্যাপ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ক্রেডিট কার্ডের ক্যাপ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা ও প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হবে বলে বাংলাদেশে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়। এ সময় এই সংক্রান্ত কিছু দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

সৌজন্য সাক্ষাতে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এসক্রো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটায় উৎসাহিত করতে এবং প্রতারণা এড়াতে ‘মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও এসক্রো সেবা নীতিমালা ২০২৩’ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ উদ্যোগকে আরও সংশোধিত ও এর বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কমিটিতে এফবিসিসিআই, ই-ক্যাবসহ ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স খাত এখনো নতুন। সম্ভাবনাময় এ খাতে এখনো অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। সব বাধা অতিক্রম করে শিগগির ই-কমার্স খাত সামনে এগিয়ে যাবে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।