এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ৯.৬৩%

আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার। কিন্তু প্রথম তিন মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশের মধ্যে।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশে। আর খাবারের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগস্টে যা ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৯২ ও ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এই মাসে খাদ্যে রেকর্ড মূলস্ফীতি হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর অর্থ হলো গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের সেপ্টেম্বরে তা কিনতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৬৯ পয়সায়। আবার গত বছর একই সময়ে যে খাবার কিনতে হয়েছিল ১০০ টাকায়, এ বছর সেপ্টেম্বরে তা কিনতে হয়েছে ১১২ টাকা ৩৭ পয়সায়।

অর্থবছরের শুরুর মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

দুর্বল মুদ্রানীতিসহ চার কারণে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন। এই মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ^ব্যাংক। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

বাংলাদেশের এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এ লক্ষ্যে মুদ্রানীতিও প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তিন মাস পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণয়ন করা মুদ্রানীতি কোনো কাজে আসছে না।

মুদ্রানীতিতে পদক্ষেপ হিসেবে ৯-৬ সুদের হার তুলে নিয়ে স্মার্ট সুদহার প্রণয়ন করা হয়েছিল। টাকার প্রবাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলে আসছিলেন, যে স্মার্ট সুদহার করা হয়েছিল তা-ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্য হয়েছে।

বিশে^ এই মুহূর্তে যে কয়টি দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম কাতারে আছে শ্রীলঙ্কা। এক বছর আগেও যে দেশে মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশের বেশি ছিল, বর্তমানে তা ৪ শতাংশের নিচে।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮২ শতাংশের মধ্যে।

এতে দেখা যায়, শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট বেশি। গ্রাম এলাকায় গড় মূল্যস্ফীতি দশমিক ৭৫ শতাংশ। গ্রামে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫১, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম। শহর এলাকায় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ।

বেড়েছে মজুরি : মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে মজুরির হারও। এই মুহূর্তে দেশের গড় শ্রম মজুরির হার ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত আগস্টের তুলনায় তা বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। মজুরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ব্যবধান আগের মতোই। মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ আর মজুরি ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ; অর্থাৎ মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি।

মজুরির ক্ষেত্রে শিল্প খাতের মজুরির হার সবচেয়ে কম। এতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতের শ্রমিকদের গড় মজুরির হার ৭ দশমিক ৯১, শিল্প খাতের শ্রমিকদের গড় মজুরির হার ৭ দশমিক ১২, সেবা খাতের মজুরির হার ৮ দশমিক ১২ শতাংশ।