নতুন বিছানার চাদর না ধুয়েই বিছিয়ে দেন?

সুস্থ থাকার জন্য যতটা প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঠিক ততটাই প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। আমাদের আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্রের মধ্যে বিছানার চাদরই সবচেয়ে দ্রুত অপরিষ্কার হয়। বিছানার চাদর নোংরা হয়ে গেলেই যে ধুয়ে ফেলতে হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই বিছানার জন্য কেনা নতুন চাদরটি না ধুয়েই বিছানায় বিছিয়ে ফেলেন। আবার সময়মতো বিছানার চাদরটি পরিবর্তনও করেন না।

বিছানার নতুন চাদরও কি ধুতে হবে?

বিছানার নতুন চাদর ধোওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের মানুষেরই নতুন জিনিস ব্যবহার করার উত্তেজনা থাকে। এমন অবস্থায় বিছানার চাদর কিনে আনার সঙ্গে সঙ্গে না ধুয়ে বিছিয়ে দেন অনেকেই। কিন্তু এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে শিপিং, প্যাকেজিং এবং দোকানে পৌঁছানোর সময়, বিছানার চাদরটি অনেক ধরণের জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। এছাড়াও, এটি আপনার কাছে পৌঁছানোর আগে, অনেকগুলি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়, যার মধ্যে রাসায়নিকের ব্যবহারও জড়িত। শুধুমাত্র পরিষ্কার করে ধোওয়ার মাধ্যমেই এই জীবাণু তাড়ানো যেতে পারে। আপনার ত্বক যদি খুব সংবেদনশীল হয়, তাহলে উৎপাদন এবং পোস্ট প্রোডাকশনের সময় নতুন বিছানার চাদরে থাকা রাসায়নিকগুলি চুলকানি বা ত্বকের জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।

নতুন চাদর ধোওয়ার সঠিক উপায়

নতুন চাদর ধোওয়ার সঠিক উপায় হল, নতুন অবস্থায় চাদরে বিশেষ কোনও দাগ থাকে না, তাই ডিটারজেন্ট দিয়ে এটি ধোওয়ার প্রয়োজন নেই। আধ বালতি পানিতে দুই চামচ বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। সেই পানিতে চাদরটি ৩০ মিনিট ধরে ভিজিয়ে রাখুন। ফ্যাব্রিককে জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি এটি কাপড়কেও ভালোরকম নরম করে দেবে, যা শরীরের পক্ষেও সুরক্ষিত এবং আরামদায়ক হবে।

সময়মতো বিছানার চাদর না বদলানোর প্রভাব

সময়মতো বিছানার চাদর পরিবর্তন না করার ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ। বিছানার চাদরে জমে থাকা ধুলাবালু, ব্যাকটেরিয়া আমাদের ঘুমের সময় সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যা থেকে শরীরে দেখা দিতে পারে অ্যালার্জি, ব্রণ কিংবা একজিমা। এ ছাড়া অপরিষ্কার বিছানা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে ঘুমের। কারণ, মানুষের ঘুম পুরোটাই নির্ভর করে তার আরামের ওপর। অপরিষ্কার বিছানায় নিশ্চয়ই সেই আরামের ঘুম হবে না। আর ঘুমে নিয়মিত ব্যাঘাত সুযোগ করে দেয় দেহে আরও অনেক রোগ বাসা বাঁধার।

বিছানার চাদর ঠিক কত দিন পর পর বদলানো উচিত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সপ্তাহ পরপরই বিছানার চাদর বদলানো প্রয়োজন। বিছানায় জমা হওয়া মৃত কোষ ও ঘাম, ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করতে দেড় থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যে কারণে দুই সপ্তাহ পরপর অবশ্যই বিছানার চাদর পরিবর্তন করা উচিত। তবে এটা সময়ের ওপরও নির্ভর করে। শীতকালে যেহেতু তাপমাত্রা কম থাকে, তাই ঘামও তৈরি হয় কম। সে সময় চাইলে একটু বেশি সময় একই চাদর রাখা যেতে পারে। তবে এ সময় শরীরের মৃত কোষের উৎপাদন কিন্তু কমে যায় না। শীতকালে একটু শিথিল করে প্রতি মাসে একবার চাদর বদলালেও চলবে। তবে গ্রীষ্মকালে তা যেন কোনোভাবেই দুই সপ্তাহের বেশি না হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ রাখা প্রয়োজন।