সুদহার বাড়ানোর পরও সংশয়

বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ দেশই সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বর্তমানে এটিই প্রমাণিত কার্যকর হাতিয়ার। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বিশে^র প্রায় সব দেশ যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। অবশ্য দেরিতে হলেও বাংলাদেশ এখন সে পথে হাঁটতে শুরু করেছে। গত দুদিনে নীতি সুদহার ও ব্যাংক ঋণের সুদহার কিছুটা বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

তবে দেশে যে হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, সে তুলনায় সুদহার ততটা বাড়ানো হয়নি। পদক্ষেপও ধীরগতির। ফলে মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ কতটা সফলতার মুখ দেখবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, সুদহার বাড়ানোর উদ্যোগটি অন্তত আরও এক বছর আগেই দেওয়া উচিত ছিল। এ ছাড়া সত্যিকার অর্থে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সুদহার আরও কয়েক ধাপ বাড়াতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সুদহার ও মুদ্রাবিনিময় হার বাজারভিত্তিক করতে হবে।

গত বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নীতি সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর এক দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংক ঋণের সুদহার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সুদহার বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশের ব্যাংক ঋণে যে সুদের হার রয়েছে তা বাজারভিত্তিক নয়। স্মার্ট সুদের হারের নামে এটিকে সীমায় আটকে রাখা হয়েছে। তবে আশার দিক হচ্ছে, দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নতুন করে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এ ক্ষেত্রে আরও দু-তিনবার এভাবে বাড়ানোর পর হয়তো মূল্যস্ফীতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে।

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট করিডরের যে তথ্য দিচ্ছে তা সঠিক নয়। ইন্টারেস্ট রেট করিডর মানে হঠাৎ ২০০ বেসিস পয়েন্ট বা মাত্রাতিরিক্ত যদি বেড়ে যায় তখন বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে মুদ্রা তুলে নিয়ে সুদহার নিয়ন্ত্রণ করবে। আবার যদি সুদহার কমে যায় তখন আবার বাজারে অর্থের জোগান বাড়িয়ে সুদের হার বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এটি করছে না।

গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বিবিএস যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। আবার খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো ১২ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ধারণ কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

অর্থনৈতিক দুর্যোগকালীন সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামলাতে গত বছরের এপ্রিলে একধাপে ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার বাড়িয়ে দেয় শ্রীলঙ্কা। এর পরও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দাঁড়ায় ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশে। এরপর ধাপে ধাপে ঋণের সুদহার বাড়িয়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সুদহারের রেকর্ড। তবে পরে মূল্যস্ফীতি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সুদহারও কমিয়ে আনে শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরের মে থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে। মাত্র তিন মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি নেমে আসে ৪ শতাংশে। আর সেপ্টেম্বর শেষে মূল্যস্ফীতি নেমে আসে ১ দশমিক ৩ শতাংশে। তবে মূল্যস্ফীতি নিরাপদ সীমায় নামলেও আমানতের সুদহার দুর্যোগ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে নেননি শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের প্রধান সুদহার আগের চেয়ে ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ১১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

২০২০ সালে শূন্যের কাছাকাছি থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উঠে যায়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধাপে ধাপে নীতি সুদহার বাড়ায় দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ। গত আগস্টে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এলেও বর্তমানে দেশটির নীতি সুদহার ৫ দশমিক ২৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ বজায় রেখেছে। সুদহার আর না বাড়ানোর আভাস দিলেও সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। এতে করে চলতি বছরে নীতি সুদহার আরেক ধাপ বাড়িয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংক জেপি মরগ্যানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমি ডিমন। ইউক্রেন যুদ্ধ ও তেল-গ্যাসের বাজারে অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে সুদহার বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন আভাস দেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যে বেঞ্চমার্ক সুদের হার রয়েছে, তা ২০০৭ সালের আবাসন খাতের ধসের পর সর্বোচ্চ। ৭ শতাংশ সুদহার কার্যকর হলে তা দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকারীদের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আর্থিক বাজার এর চাপ নিতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব সারা বিশ্বে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো আরও চাপের মুখে পড়বে। এসব দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আরও কমবে, বিদ্যমান বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ঝুঁকিতে পড়বে। গত এক বছরে ফেডারেল রিজার্ভ যখন ধাপে ধাপে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছে। এতে একদিকে যেমন ডলার শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে বিশ্বের প্রায় সব মুদ্রার পতন হয়েছে। বাংলাদেশের মতো অনেক দেশ বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ হারিয়েছে, স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হয়েছে, যা কার্যত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়েছে।

এদিকে আমদানি নিয়ন্ত্রণসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও বাংলাদেশ বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে পারছে না। আমদানির দায় ও বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপে প্রতি মাসেই ধারাবাহিকভাবে কমছে রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ২ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। তবে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ রয়েছে ২ হাজার ৯০ কোটি ডলার। আর আইএমএফকে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশের নিট রিজার্ভ রয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুই বছর ধরে প্রতি মাসেই রিজার্ভ থেকে ১০০ কোটি ডলার কমছে। ২০২১ সালের আগস্টে ছিল দেশের রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বেশি। ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমে যাওয়ায় বড় সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন রিজার্ভ ধারণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রান্তে রয়েছে।

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রা আয়ের প্রধান দুটি খাত হচ্ছে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। কিন্তু তৈরি পোশাকের মাধ্যমে রপ্তানি আয়ে সামান্য প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেও প্রবাসী আয়ে পতন অব্যাহত রয়েছে। আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপের পরও আগস্টে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলারের বেশি। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ইতিবাচক থাকলেও আর্থিক হিসাবে বড় ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০২ কোটি ডলার। ফলে রিজার্ভ আরও চাপের মধ্যে রয়েছে।

গত বছর দেশে আর্থিক সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ চায় বাংলাদেশ। সংস্থাটি দেশের আর্থিক খাতে বড় সংস্কারের শর্তে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ এই ঋণের প্রথম কিস্তিও পেয়েছে। চলতি মাসের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে এই ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার কথা। দ্বিতীয় কিস্তির ছাড়ের জন্য গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশকে ছয়টি বড় সংস্কার আনার শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ। কিন্তু বাংলাদেশ দুটি শর্ত বাস্তবায়নে বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা ২১ বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ব্যর্থতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এনবিআরের জন্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। কিন্তু গত অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা কম আদায় করেছে। ব্যর্থতার জন্য চলতি অর্থবছর এনবিআরের যে স্বাভাবিক লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে হবে।

শর্ত পূরণ না হওয়ায় ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি স্থগিত করেছে আইএমএফ। দেশটি বেঁধে দেওয়া রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন খড়্গ নেমে আসতে পারে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, বাজারভিত্তিক ডলার দরের শর্ত পূরণ না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদল। বিশেষ করে রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানিকারকদের জন্য ভিন্ন পৃথক দর বেঁধে দেওয়া অবাস্তব হিসেবে দেখছে তারা। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক যে দরে রিজার্ভ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে, সেটিও বাজারভিত্তিক নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফ মনে করে, বাজারভিত্তিক ডলার দর কার্যকর না করায় রিজার্ভ আশঙ্কাজনক হারে কমছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) কর্তৃক ডলারের দাম নির্ধারণ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েও সন্তোষজনক উত্তর পায়নি সংস্থাটি। এ ছাড়া তারল্য সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা রিজার্ভ কমাতে সরাসরি প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বলেও মনে করে আইএমএফ।

চলমান রিজার্ভ সংকট প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে রিজার্ভ ধরে রাখতে হলে ডলার আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর বাংলাদেশের ডলার আয়ের প্রধান দুটি খাত হচ্ছে, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়। এই দুই খাত থেকে পর্যাপ্ত ডলার না আসায় মূলত বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বিদেশি ঋণ ও এফডিআইয়ের মাধ্যমে ডলার আসে, যা সাময়িক। রিজার্ভ ধরে রাখতে হলে বিদেশ থেকে ধার করে এখন সামাল দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে দরকার স্থায়ী সমাধান। এজন্য বাংলাদেশকে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আর এই ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা বেঁধে দেওয়া মুদ্রাবিনিময় হার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবিনিময় হার বেঁধে দেওয়ায় ব্যাংকগুলো বেশি দরে ডলার কেনার সাহস পাচ্ছে না। এতে মানুষ বেশি অর্থের লোভে অবৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। এ মুহূর্তে মুদ্রাবিনিময় হার বাজারভিত্তিক না করলে সংকট আরও বাড়বে। আর সংকট ঘনীভূত হওয়ার পর মুদ্রাবিনিময় হার বাজারভিত্তিক করেও লাভ হবে না।