ডেঙ্গু

চোখের সামনেই দুরন্ত সন্তানের প্রাণ যেতে দেখলেন চিকিৎসক দম্পতি

কিশোরগঞ্জে চিকিৎসক মীর নূর উস সা'দ দম্পতির পরিবারে এখন শোকের ছায়া। গত বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ৯ বছরের শিশু মীর ইসাদ তাসফিনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ডেঙ্গু। সেই থেকে পরিবারে কান্নার রোল। পাড়া-পড়শীরাও শোকাহত। তাসফিন ছিল এই দম্পতির অন্ত-প্রাণ। চোখের সামনে হাসপাতালের বিছানায় দুরন্ত শিশুটির প্রাণ যেতে দেখলেন তারা। নগরের ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত তাসফিন। তার বড় ভাই সারজিন একই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

রবিবার দুপুরে মীর নুর উস সা'দের এক স্বজন ফোনে জানান, ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক চিকিৎসক দম্পতি। তাদের আক্ষেপ- চিকিৎসক হয়েও নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারলেন না। গত বৃহস্পতিবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে ছোট্ট তাসফিনকে কবরে শুইয়ে দিয়েছেন তারা। এরপর থেকে কাঁদছেন বাবা মীর নূর উস সা'দ। একনাগাড়ে শুধু একটাই কথা বলে যাচ্ছেন 'কলিজার টুকরা তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি কেন বেঁচে আছি'। সন্তানের জন্য অঝোরে কাঁদছেন চিকিৎসক মা হালিমা সাদিয়া। ফুটফুটে প্রাণচঞ্চল ওই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে সপ্তাহখানেক ধরে চিকিৎসাধীন এক শিশুর চাচা সরকারি কর্মকর্তা মো. আদিল রশিদ বলেন, সন্তানকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন মীর নূর উস সা'দ দম্পতি। আইসিইউ থেকে গত বৃহস্পতিবার সকালে সন্তানের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর চিৎকার করে কান্না জুড়ে দেয় তারা। চিকিৎসক হয়েও সন্তানকে বাঁচাতে না পারায় সেই আফসোসেই হাসপাতালে বুক চাপড়াতে থাকেন তাসফিনের মা-বাবা।

জানা গেছে, গত সোমবার মা সাদিয়া ও তাসফিনের জ্বর আসে। ওই দিনই পরীক্ষা করানোর পর তাদের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এ সময় নূর সা'দ ছিলেন চট্টগ্রামে। চিকিৎসক হওয়ায় অধিক সতর্ক ছিল বাবা-মা দুজনই। গত ৩ অক্টোবর তাসফিনকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার বিকেলে তাসফিনকে নগরের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে সেখানকার আইসিইউতে রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় তাসফিন।

জানা গেছে, এই চিকিৎসক দম্পতি থাকেন চট্টগ্রামের খুলশি এলাকায়। তাসফিনের বাবা মীর নূর উস সা'দ কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক। মা হালিমা সাদিয়া চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসক।

রবিবার দুপুরে নগরের বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে গেলে সেখানকার এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করে জানান, সন্তানের চিকিৎসায় কোনো বিলম্ব করেননি চিকিৎসক দম্পতি। শিশুটির ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। তাকে আইসিইউতে রেখেও বাঁচানো গেল না।

চিকিৎসক নূর সা'দ বলেন, 'গত বুধবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাসফিনকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। এ অবস্থায় তাকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুকের ধনকে বাঁচাতে পারলাম না।'

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছেন ৭৮ জন নারী-পুরুষ। এর মধ্যে ২৮ জনই শিশু।