ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র হামাস গোষ্ঠীর হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ফ্লাইট বন্ধ করেছে বেশ কিছু দেশের এয়ারলাইনস। ইসরায়েলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তেল আবিবে বন্ধ থাকবে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের এসব ফ্লাইট। গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এবং ডেলটা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করছে।
বিবিসি জানাচ্ছে, এ তিন এয়ারলাইনস সাধারণত নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি এবং মায়ামি থেকে সরাসরি ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করে। তারা জানায়, পরিস্থিতি উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা এ পরিষেবা বন্ধ রাখবে।
ডেল্টার প্রতিনিধিরাও জানিয়েছে, তারা এ সপ্তাহে ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং শিডিউলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্র্তৃপক্ষও এয়ারলাইনসগুলোকে ফ্লাইট শুরু করার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছে। ইউরোপ এবং এশিয়ার কয়েকটি এয়ারলাইনসও একইভাবে ইসরায়েলে ফ্লাইট বন্ধ করেছে।
ইউরোপের জার্মান এয়ারলাইনস লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং হাঙ্গেরির উইজ এয়ার তেল আবিবের গুরিওন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ করছে। যুক্তরাজ্যের ইজিজেট বলেছে, তারা তেল আবিবে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফ্লাইটের সময় ঠিক করা হবে। চীন এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলাচলকারী একমাত্র এয়ারলাইনস হাইনান সোমবার সাংহাই এবং তেল আবিবের মধ্যকার ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ক্যাথাই প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট হংকং এবং তেল আবিবের মধ্যে চলাচল করে। ক্যাথাই প্যাসিফিক মঙ্গলবার হংকং থেকে আসা এবং যাওয়ার ফ্লাইট বাতিল করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী ইনচেওন এবং ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের মধ্যে চলাচল করে কোরিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। সোমবার তারাও ফ্লাইট বাতিল করেছে। ভবিষ্যতে তাদের ফ্লাইট অনিয়মিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা।
তেল আবিবে যাওয়া এবং আসার ফ্লাইট বন্ধ করেছে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া এয়ারলাইনসও। এয়ারলাইনসটির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন। ফ্লাইট ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এয়ারলাইনসগুলো শুধু ইসরায়েলে ফ্লাইট বন্ধই করেনি বরং ইসরায়েলের আকাশসীমাও এড়িয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কয়েক দশকের মধ্যে গত শনিবার হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে হামলা চালায়। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা রকেট হামলা চালানোর পাশাপাশি সুপরিকল্পিতভাবে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। তারা কয়েক ঘণ্টা ইসরায়েলি শহর ও সেনাচৌকি অবরুদ্ধ করে রাখে। অভিযানে বেশ কিছু ইসরায়েলি নিহত হয়। কিছু ইসরায়েলি নাগরিককে জিম্মি করে গাজায়ও নিয়ে যায় ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরা। ইসরায়েল এর পাল্টা জবাবে গাজায় বিমান হামলা শুরু করায় যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।