যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে

হামাস ইসরায়েলে হামলা শুরু করার পর দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় চার দিনে অন্তত ১ হাজার ৮৫৩ জন নিহত হয়েছে। গত শনিবার থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ হাজার। অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩০ জনে। ইসরায়েলের হামলায় পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকায় নিহত হয়েছে আরও ১৯ জন। আর লেবাননে নিহত হয়েছে চার হিজবুল্লাহ যোদ্ধা। এর বাইরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, ইসরায়েলে এবং গাজা উপত্যকার আশপাশে দেড় হাজার হামাস যোদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে তারা। তাদের এ দাবি সঠিক হলে চলমান সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৫৩ জনের বেশি।

এ ছাড়া সব মিলিয়ে দুই অঞ্চলে আহতের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি। এখনো যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ না থাকায় হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়বেই। 

জাতিসংঘ বলছে, গাজায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। ইসরায়েলের কর্র্তৃপক্ষ গাজায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাবার, পানিসহ সব ধরনের সেবা বন্ধে সম্পূর্ণ অবরোধ দেওয়ার পর সংকটে গাজার সাধারণ মানুষ। গাজার হাসপাতালগুলোও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে। সংস্থাটি গাজায় একটি মানবিক করিডর খোলার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতি। তবে তাতে সাড়া দেয়নি দেশটি। 

এদিকে এই সংঘাতে এত দিন তুলনামূলক নিরপেক্ষ থাকা সৌদি আরব গতকাল তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি আব্বাসকে বলেছেন, সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের অধিকার আয়াদের লড়াইয়ে পাশে আছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, হামাসের হাতে আটক তার দেশের নাগরিকসহ ইসরায়েলিদের রক্ষায় সব ধরনের সহায়তা তারা দেবেন। 

এ ছাড়া হামাসের গণহত্যা চালানোর পেছনে ইসরায়েল দায়ী বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। তিনি বলেছেন, যারা ইহুদিবাদী শাসকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছে, ‘আমরা তাদের হাতে চুম্বন করি।’ তবে তিনি হামাস যোদ্ধাদের হামলার পেছনে ইরানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

এ অবস্থায় হামাস নেতা মুসা আবু মারজুক বলেছেন, ‘লক্ষ্য অর্জনের’ পর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তাদের দিক থেকে কোনো বাধা নেই। ফোনে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুসা আবু মারজুক বলেছেন, হামাস এ ধরনের কিছু এবং সব ধরনের রাজনৈতিক সংলাপের জন্য উন্মুক্ত আছে। তবে এ জন্য ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে। 

তবে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের নিয়ে আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়েছে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার হামাসের পক্ষ থেকে নতুন করে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানো হয়। এর আগে হামাস হুঁশিয়ারি দেয় যে যদি ইসরায়েল কোনো সতর্কতা ছাড়া বিমান হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তারা ইসরায়েল থেকে আটক করা জিম্মিদের হত্যা করবে।

বিবিসি জানাচ্ছে, গত বিকেলে ইসরায়েলের দক্ষিণের শহর আশকেলন থেকে বাসিন্দাদের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার মধ্যে সরে যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হামাস। কারণ সেখানে হামলা করা হবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে। ওই সময়সীমা পার হওয়ার পর জানা যাচ্ছে, আশকেলন শহর থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।