উপস্থাপনার মাধ্যমে আমরা যে কোনো বিষয়কে সবার সামনে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারি। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন প্রতিটি ক্ষেত্রেই উপস্থাপন দক্ষতার ভিন্ন মর্যাদা রয়েছে। লিখেছেন নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত
শুদ্ধ উচ্চারণ
উপস্থাপন দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভাষার ব্যবহার। শুদ্ধ উচ্চারণ ভাষার ব্যবহারেরই একটি অংশ। সুন্দর উপস্থাপনার জন্য উপস্থাপকের ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ আবশ্যক। জড়তা ছাড়া সাবলীল ভাষায় কথা বলতে হবে। কথা বলার সময় যদি উচ্চারণে আঞ্চলিক ভাষার টান আসে তা পরিহার করতে হবে। প্রমিত ভাষায় কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খেয়াল করে দেখবে, সবাই তাকে খুব পছন্দ করে যে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। শুদ্ধ উচ্চারণে গুছিয়ে কথা বলা একটি বিশেষ গুণ, যা চর্চার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।
নিয়মিত অনুশীলন
প্রথমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলবে। যে শব্দগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারছ না, তা ঠিক করার চেষ্টা করবে। ক্লাসে বন্ধুদের সঙ্গে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার চর্চা করবে। টেলিভিশনে সংবাদ পাঠকরা কীভাবে কথা বলে তা খেয়াল করবে। চর্চা চালিয়ে গেলে দেখবে, ধীরে ধীরে তোমার শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলার অভ্যাস গড়ে উঠছে। উচ্চারণ শুদ্ধ হলে উপস্থাপনা সাবলীল হবে।
অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার
যখন যার সঙ্গে কথা বলবে তার চোখে চোখ রেখে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবে। এতে যার সঙ্গে কথা বলছ তার পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবে। যখন অধিক মানুষের সামনে উপস্থাপনা করবে সবার দিকেই একটু করে তাকাবে। মনে রাখবে, মুখে হাসির ছাপ, হাতের নড়াচড়া, শরীরী ভাষার মাধ্যমে তোমার উপস্থাপনা সবার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
সাধারণ জ্ঞান
উপস্থাপন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যে বিষয়টি উপস্থাপনা করছ সে বিষয়ে ভালো ধারণা থাকা জরুরি। যে বিষয়ে তুমি কথা বলবে সেই বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে তুমি ভালো করে বলতে পারবে না। তাই যে বিষয় নিয়ে কথা বলবে তা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেবে।
বাস্তব প্রয়োগ
শুরুটা হোক শুরু থেকেই। তোমার স্কুল বা কলেজের যে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতে পারো। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে নিজের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। উপস্থাপন দক্ষতা যেমন তোমাকে যে কোনো অনুষ্ঠান পরিচালনা, বক্তৃতা প্রদানে সাহায্য করবে ঠিক তেমনি মানুষের সঙ্গে তোমার যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। বিদ্যালয়ে যখন কোনো বিষয় উপস্থাপন করার প্রয়োজন হবে তখন তুমি অনায়াসে করতে পারবে। ভবিষ্যতে যখন তুমি কর্মজীবনে প্রবেশ করবে তোমাকে কোনো জড়তার সম্মুখীন হতে হবে না। দ্বিধাহীনভাবে তুমি অনর্গল কথা বলতে পারবে। সবার সামনে যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।