বিশ্বকাপের শুরুটা একেবারেই বাজে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ভারতের বিপক্ষে বড় হার দিয়ে শুরু করা প্যাট কামিন্সদের উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সামনে আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলে অভিমত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। অজিদের তারকা ওপেনিং ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেন মনে করেন, এই অস্ট্রেলিয়া দলের মধ্যে সুস্পষ্ট লক্ষ্যের বড্ড অভাব।
বিশ্বকাপ আসরের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের পরাজয়ের ব্যবধানও আরও শোচনীয়, ১৩৪ রানে। দুই ম্যাচের একটিতেও ২০০ পেরোতে পারেনি তারা। তার চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয়, এই দুই ম্যাচের কোনোটিতেই জ¦লে উঠতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা।
‘মাইটি অজি’দের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে খুব ব্যথিত হয়েছেন সাবেক এই দুই তারকা ক্রিকেটার। প্রথম দুই ম্যাচের শোচনীয় দশা নিয়ে মুখ খুলতে কোনো রাখঢাক রাখেননি তারা। মাইকেল ক্লার্ক তো বলেই বসেছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাসির পাত্রে পরিণত হবেন তার উত্তরসূরিরা।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা এই ব্যাটসম্যান মনে করেন, ভারতের স্পিনবান্ধব উইকেটে পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে কামিন্সদের, ‘এই কন্ডিশনে শ্রীলঙ্কা দুর্দান্ত দল। আমরা এখনো পাকিস্তানের সঙ্গে খেলিনি। আমাদের সামনে বেশ কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বুঝতে পারছি, এভাবে খেললে আমাদের সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই করা হবে না।’
স্কাই স্পোর্টস রেডিওর ব্রেকফাস্ট শো, ‘বিগ স্পোর্টস ব্রেকফাস্টে’ উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেছেন ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ার এখনো উপমহাদেশের তিন দলÑ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা বাকি। ক্লার্কের শঙ্কাটা এখানেই, ‘উপমহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে হতে যাওয়া ম্যাচগুলো নিয়েই আমি বেশি চিন্তিত। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যে খেলা আমরা খেলেছি, সেটি উপমহাদেশের দলগুলোর সঙ্গে খেললে, অস্ট্রেলিয়া হাসির পাত্রে পরিণত হবে।’
ম্যাথু হেইডেন সরাসরি আঘাতটা করেছেন দলের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা নিয়ে। ‘এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার এখনো কোনো পরিষ্কার লক্ষ্য দেখাতে পারেনি’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার খেলা দেখে হেইডেনের মনে হয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয়া সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার চেয়ে আশার ওপর নির্ভর করে বসে আছে।’
উইজডেন ডট কমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের হেইডেনের কণ্ঠ থেকে এমন বিষোদগার ঝড়ে পড়ে। হেইডেন আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অবর্ণনীয় পরিশ্রম। পরের প্রজন্মের জন্য যা বিশাল অর্জন। কিন্তু দলের খেলা দেখে মনে প্রশ্ন জাগছে, এরা কীভাবে ম্যাচ জিতবে! একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে আসরের শুরু দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে না কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অজিরা বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার পরের ম্যাচ ১৬ অক্টোবর, লক্ষেèৗয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলবে তারা। ওয়ার্নার-স্মিথরা লঙ্কানদের পরেই খেলবেন পাকিস্তানের সঙ্গে। বেঙ্গালুরুতে ম্যাচটি হবে ২০ অক্টোবর। প্রাথমিক পর্বে অস্ট্রেলিয়ার সবশেষ ম্যাচ বাংলাদেশের সঙ্গে, আগামী ১১ নভেম্বর পুনেতে।