এবার জেতাক ব্যাটসম্যানরা

আপডেট : ২০ জুন ২০২৪, ০১:০৪ এএম

বোলারদের কল্যাণে অর্ধেক বৈতরণী তো পার হওয়া গেল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বটা বাংলাদেশ পার করেছে বোলারদের ওপর ভর করেই। ব্যাটসম্যানদের নামের পাশের অঙ্কগুলো রীতিমতো বিভীষিকা। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রপ-ইন উইকেটের খানিকটা ভূমিকা আছে, সেই সঙ্গে উইকেট ছুড়ে আসার উদাহরণও কম নেই। বাংলাদেশের ব্যাটিং রীতিমতো হৃৎকম্প ধরায় দর্শকের। সুপার এইট পর্বে উইকেট খানিকটা ভালো হওয়ার আশা, সেই সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যাটসম্যানদের রানে ফেরার।

সৌম্য সরকার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য করে সেই যে বাদ গেলেন, তার আর একাদশে ফেরার সম্ভাবনা কম। অনুশীলন করছেন, দিব্যি ঘুরেটুরেও বেড়াচ্ছেন, তবে দলের পরিকল্পনায় তাকে একাদশে রাখার দুঃসাহস আপাতত নেই; বরং শরিফুল ইসলামকে কী করে একাদশে ঢোকানো যায়, সেই চিন্তায় পাচ্ছে প্রাধান্য। শূন্যের চূড়ায় উঠে সৌম্য বিদায় নিলেও বাকিরা যে খুব রান উৎসবে মত্ত, সে কথাও বলার উপায় নেই। নেপালের বিপক্ষে তানজিদ তামিমও বিদায় নিয়েছেন ইনিংসের প্রথম বলে। ৪ ম্যাচে ৪২ বল খেলে তার ৪৭ রান, এর ভেতর এক ইনিংসেই ৩৫; নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। বাকি ৩ ম্যাচে ৩, ৯ ও ০ রান। স্ট্রাইক রেটটা ১১১, এটাই খানিকটা ইতিবাচক। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বেলায় এটাও বলা যাচ্ছে না। ৪ ম্যাচে রান করেছেন ২৬, বল খেলেছেন ৪৪টি। ৭, ১৪, ১, ৪; এই হচ্ছে অধিনায়কের ইনিংস। যখন শুনবেন টি-টোয়েন্টিতে টপ অর্ডারে ব্যাট করে পাওয়ার প্লেতে খেলা একজন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ৫৯.০৯, তখন একাদশে সেই ব্যাটসম্যানের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। তবুও শান্ত আছেন, তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন অধিনায়কত্ব আর মাথার ওপর অদৃশ্য হাত।

লিটন দাস উইলো হাতের মোনালিসা, এমন অনেক বিশেষণ নানা সময়ে যুক্ত হয়েছে তার নামের সঙ্গে। কিন্তু রান করতে ভুলে যাওয়ার পাশাপাশি কুৎসিতভাবে আউট হওয়ার ধরন লিটনের স্কোরকার্ডকে বানিয়েছে জয়নুলের দুর্ভিক্ষ। এই বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে করেছেন ৬৫ বলে ৫৬ রান, যার ভেতর এক ইনিংসেই ৩৬ আর বাকি ৩ ইনিংস মিলিয়ে করেছেন ২০ রান। অন্তত নেপালের বিপক্ষে কিছু রান তো করতেই পারতেন লিটন। আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ, নেপালের চেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ এই আসরে আর নেই। কিন্তু সোমপাল কামির বল যেভাবে আকাশে তুলে দিয়েছেন, সেটা দেখে মনে হবে একদম আনাড়ি কোনো ক্রিকেটার। লিটনের স্ট্রাইক রেটও অসন্তোষজনক, মাত্র ৮৬.১৫। টি-টোয়েন্টিতে একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট এমন হওয়ার একটাই কারণ, আত্মবিশ্বাসের অভাব।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটসম্যানই ছন্দে নেই। সে জন্য কেউ অতি আগ্রাসী হয়ে, চড়াও হয়ে খেলতে চান প্রথম বল থেকে, প্রতিপক্ষের বোলারকে বাছবিচার না করে। কেউ বা থিতু হওয়ার জন্য অতিরিক্ত বল খেলে পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের জন্য চাপ বাড়িয়ে তোলেন। বাংলাদেশের পাওয়ার প্লেতে দলীয় রান ৪ ম্যাচে যথাক্রমে ৩৪/৩, ২৯/১, ৫৪/২ ও ৩১/৪।  ৪ ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস ২০ ওভারে ১৫৯/৫ আর সর্বনিম্ন ১০৬। বলা যায়, র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ ধাপ পেছনে ১৮ নম্বরে থাকা নেপালের বিপক্ষেই সবচেয়ে খারাপ ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো।

সুপার এইটে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ নিঃসন্দেহে নেপালের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং ধারালো। তাদের বিপক্ষে কী করবেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা? টপ অর্ডারের তিনজনের কাছ থেকে সুপার এইটে কি দেখা যাবে তিনটা সুপার ইনিংস, যা ভোল পালটে দেবে বাংলাদেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত