১৯১৬ সালে তৈরি করা হয় চেন্নাইয়ের এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামটি। এ স্টেডিয়ামটি উপমহাদেশের আদর্শ স্পিনসহায়ক মাঠ বলেই পরিচিত। সেই মাঠেই ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা গতকাল মুখ থুবড়ে পড়ে কিউইদের গতির সামনে। ৯ উইকেটে ২৪৫ রানের মামুলি সংগ্রহের পর কেন উইলিয়ামসনকে টলাতে পারেনি বাংলাদেশি পেসার বা স্পিনাররা। হার মেনে নিতে হয়েছে ৮ উইকেটে।
প্রায় সাত মাস ক্রিকেট থেকে দূরে থেকেও উইলিয়ামসন দেখিয়েছেন বড় মঞ্চে চাপের মধ্যে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়। তার নান্দনিক ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংসটি ছিল চোখের
তৃপ্তির। উইলিয়ামসন ক্রিজে আসেন তৃতীয় ওভারে। তখন ফর্মে থাকা রাচিন রবীন্দ্রকে ৯ রানেই ফিরিয়ে দিয়েছেন মোস্তাফিজ। সঙ্গে করছেন আগুনে বোলিং। আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলেই ভীষণ চাপে পড়ে যাবে কিউইরা। সেই পরিস্থিতিতে জাত চেনান উইলিয়ামসন। ডেভন কনওয়েকে নিয়ে গড়ে তোলেন ৮০ রানের জুটি। তাতে বিপদ সামলে ওঠে নিউজিল্যান্ড। সাকিবের ঘূর্ণিতে ৪৫ রান করা কনওয়ে কাটা পড়ার পর ড্যারিল মিচেলকে নিয়ে ১০৮ রানের আরেকটি জুটি বাঁধেন কিউই অধিনায়ক।
তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৮তম ওভারে শান্তর ছোড়া থ্রো হাতে লাগলে অস্বস্তিতে পড়েন উইলিয়ামসন। ওই ওভার শেষে উঠে যান মাঠ থেকে। তার ১০৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংসটি সাজান ৮টি চার ও ১টি ছয়ে। বাকি পথটুকু গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে পাড়ি দেন মিচেল। মিচেল খেলেন ৬ চার ও ৪ ছয়ে ৬৭ বলে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস। ফিলিপসের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান।
গতকাল টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৬ রান করে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন লিটন দাস। এ ম্যাচেও তার ব্যাটের ওপর ভরসা করেছিলেন বাংলার সব সমর্থক। তবে সেই আশায় গুড়েবালি। ম্যাচের প্রথম বল থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে চেয়েছিলেন লিটন। ট্রেন্ট বোল্টের করা ডেলিভারিটি ছিল পায়ের ওপর। ক্রিজ ছেড়ে কয়েক পা এগিয়ে ফ্লিক করেন লিটন। ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান ম্যাট হেনরি। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ ওপেনার।
প্রথম বলেই লিটনকে হারানোর পর ক্রিজে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধে গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদকে নিয়ে। গড়ে তোলেন ৪০ রানের জুটি। কিন্তু লোকি ফার্গুসনের বলে ধরাশায়ী হন তানজিদ তামিম। ১৭ বলে ১৬ রান করে আবারও ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন এ তরুণ। বিশ্বকাপের তিন ম্যাচে তার রানের পরিসংখ্যান ৫, ১, ১৬।
প্রতিরোধ গড়ে তুলেও বেশি সময় টিকে থাকতে পারলেন না মিরাজ। ফার্গুসনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। মিরাজ আউট হন ৪৬ বলে ৩০ রান করে। তার উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলানোর আগেই সাজঘরের পথ ধরেন নাজমুল হাসান শান্ত। তিন বলের ব্যবধানে ৫৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।
মাত্র আট বল ক্রিজে ছিলেন শান্ত। তাতে মন খুলে ব্যাটিং করতে পারলেন কই। চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। তাদের ৯৬ রানের জুটিতে আশার প্রদীপ জ¦লে উঠেছিল ড্রেসিংরুমে। কিন্তু ৩০তম ওভারের পঞ্চম বলে ঘটে অঘটন। সাকিব আগের বলটিতে ছক্কা মারেন। পরের বলেই আউট। ফার্গুসনের তৃতীয় শিকার হয়ে ৪০ রান করে ফিরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাকিব ফেরার কিছু সময় পর হেনরির সেøায়ারে বোকা বনে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুশফিক। তার ৬৬ রানের ইনিংসটিতে বাংলাদেশ আশা দেখছিল। ৭৫ বলের এই ইনিংসে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান মুশফিক।
এরপর হৃদয়কে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন বোল্ট। এরপর তাসকিনকে নিয়ে ৩৪ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাসকিন ফিরে যান দলীয় ২১৪ রানে। সেখান থেকে বাংলাদেশকে আড়াইশর কাছে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। দুটি করে চার-ছক্কায় তার অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংসে কিউইদের সামনে ২৪৬ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।
তবে এ লক্ষ্য কিউই শক্ত ব্যাটিং লাইনের সামনে যে কিছুই নয়, তা প্রমাণ করেছে তারা ৪৩ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়ে।