দেশের ব্যাংক খাতের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও দিন দিন বাড়ছে খেলাপি ঋণ। এতে প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মূলধন সংরক্ষণসহ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে কঠোর বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক জানান, সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মূলধন সংরক্ষণ পরিকল্পনা জমার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত আর্থিক উন্নয়ন পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। যাতে করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণ কমে আসে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আর্থিক খাতের বহুল আলোচিত ব্যক্তি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে অনিয়ম করেছেন, পুরো খাতই এখন তার জের টানছে। পি কে হালদারের মালিকানা আছে বা ছিল, এমন কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যে কারণে সার্বিকভাবে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ ৮০ শতাংশের বেশি, সেগুলো হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এর মধ্যে প্রথম চারটি প্রতিষ্ঠানে মালিকানা আছে পি কে হালদারের। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ টাকা তিনি নামে-বেনামে তুলে নিয়েছেন, যা এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে।