নারায়ণগঞ্জের সাহাপাড়া মণ্ডপ স্মরণ করল বঙ্গবাজার ট্রাজেডি

মহাষষ্টীর মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শরাদীয় দুর্গাপূজা। পূজা উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে বর্ণিল সাজে সেজেছে শহরের পূজামণ্ডপগুলো। বিভিন্ন উপাদান ও থিম নিয়ে সাজছে মণ্ডপগুলো। এরই মধ্যে ভিন্নধর্মী ভাবনা ও সাজে দেখা গেছে নারায়ণঞ্জ শহরের টানবাজার সাহাপাড়া মণ্ডপ।

এই মণ্ডপ শহরের অন্যান্য জমকালো পূজামণ্ডপের তুলনায় কিছুটা ম্লান মনে হলেও এই সজ্জার পেছনের ভাবনাটা মনোযোগ আকর্ষণ করছে সবার। এ বছর বঙ্গবাজারে আগুনে পুড়ে যাওয়া শাড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূজা মণ্ডপের আয়োজকরা। একই সাথে সাজসজ্জায় নারীর প্রতি সহানুভূতি ও সম্মানকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সাহা পাড়া পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুমন সাহা বলেন, আমাদের ২০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমরা আলাদা উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। নারায়ণগঞ্জ জামদানীর জন্য বিখ্যাত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এ বছর আমরা জামদানী শাড়ি সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করব। কিন্তু বঙ্গবাজার ট্র্যাজেডির পর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে জামদানির পরিবর্তে তাদের পুড়ে যাওয়া শাড়ি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিই।

সজ্জায় কালো পাড় নির্দেশ করে পূজা কমিটির আরেক যুগ্ম সম্পাদক সৌরভ সাহা বলেন, সাধারণত পূজা মণ্ডপের সাজসজ্জায় কালো রং ব্যবহার করা হয় না কারণ এটি দুর্ভাগ্যের প্রতীক। তবে বঙ্গবাজারের ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে আমরা কালো রঙের শাড়িও ব্যবহার করেছি।

সৌরভ বলেন, আমরা দেবী দুর্গার পূজা করি। তাই আমরা বিশ্বাস করি যে, নারী শক্তির আরেক রূপ। তবুও আমাদের সমাজে নারীরা অবহেলিত ও লাঞ্ছিত। এ কারণে এবার আমরা নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছি সবার কাছে বার্তা দিতে।

শিল্পী রোহান খান ফরহাদ তার সহযোগীদের নিয়ে পুরো মণ্ডপ সাজিয়েছেন। সাজসজ্জায় ৩০০-এর বেশি শাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। আয়োজকরা সচেতনভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেছেন। গত বছর পাটজাত বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে সাজানো হয়েছিল এই মণ্ডপ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ কঠোর নজরদারী করা হচ্ছে।