নারায়ণগঞ্জে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে অবস্থিত দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের হাজীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে আগুন লাগার ভিডিও আপলোড হলে খবরটি জানাজানি হয়। এরপর এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে গত বছরের ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে উদ্বোধন করা হয় দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এই স্মৃতিস্তম্ভের পর দেশের অন্যান্য জেলাতেও ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নাম সংযুক্ত রয়েছে।

উদ্বোধনের পর থেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের এ স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ফতুল্লা মডেল থানার অধীনে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ঘটনার সময় ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আগুন নেভাতে পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে যেতে দেখা গেছে।

এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারা বলেন, জুলাইয়ের প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ হলেও এটাকে সেভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, গণঅভ্যুথানের দুই বছর পর এমন ঘটনা ঘটা খুবই দু:খজনক। এটির পাশে একটি পুলিশ বক্স থাকার পরও যদি আওয়ামী লীগের কেউ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে যায় তা আরও দু:খজনক। আমরা এর সুষ্পষ্ট তদন্ত চাই এবং যারা এটি করেছে তাদেরও বিচার চাই।

ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুব বলেন, গত ১৬ জুলাই এ স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। ওই অনুষ্ঠানের জন্য চারদিকে কাপড়ে মোড়ানো হয়েছিল।

ভোররাতের দিকে দূর থেকে কাপড়ের ছোট একটি দলায় আগুন ধরিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে মারা হয়। এতে আগুন স্মৃতিস্তম্ভের পাশে থাকা কাপড়ে ধরে যায়। আগুন অল্প ছিল। দ্রুতই তা নেভাতে সক্ষম হন। আগুন বেশি দেখাতে ‘এআই প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে ভিডিও বানিয়ে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তবে আগুন ছুড়েছে কারা বা কতজন ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ওসি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ভোররাতের ওই সময় দুর্বৃত্তরা আগুন দিলেও তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে আশেপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

এ ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আওয়ামী লীগ বা তাদের কেউ জড়িত কি না তা তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা দ্রুতই অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্তে কাজ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত