গাভাস্কারের ১৪৪ বলে ৫৫ থেকে ধোনির শেষ ইনিংস

ওয়ানডেতে মুখোমুখি লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে ভারত। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের লড়াইয়ে এগিয়ে আছে কিউইরা। এবারের বিশ্বকাপে দুই অপরাজিত দলের লড়াইয়ের আগে দেখে নেওয়া যাক তাদের স্মরণীয় পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচ ১৯৭৯, লিডস : প্রথম বিশ^কাপের পর দ্বিতীয় আসরেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও নিউজল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ভারত ১৮২ রানে অলআউট হয়েছিল ৫৫.৫ ওভারে। সুনীল গাভাস্কার ১৪৪ বলে খেলেছিলেন ৫৫ রানের ইনিংস। তিন ওভার বাকি থাকতে ৮ উইকেটে ম্যাচ জেতে নিউজিল্যান্ড। ১৬৭ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন ব্রুস এডগার।

১৯৮৭, নাগপুর : আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ২২১ রান। চেতন শর্মা করেন হ্যাটট্রিক; যা বিশ^কাপে কোনো বোলারের প্রথম হ্যাটট্রিকও। পরে ১০৭ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জেতে ভারত। সুনীল গাভাস্কার ৮৮ বলে খেলেন অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস। এ ছাড়া মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন অপরাজিত ৪১ ও কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত ৭৫ রান করেন।

১৯৯২, ডানেডিন : ওপেনার শ্রীকান্তের বিদায়, অজয় জাদেজা রিটায়ার্ড হার্ট। এমন অবস্থায় দলের হাল ধরেন অধিনায়ক আজহারউদ্দিন এবং তরুণ শচিন টেন্ডুলকার। আজহারের ৫৫ ও টেন্ডুলকারের ৮৪ রানে ভর করে ভারত তোলে ২৩০ রান। তবে ওপেনার মার্ক গ্রেটব্যাটের ৭৩ ও অ্যান্ড্রু জোনসের অপরাজিত ৬৭ রানে ৪ উইকেটে ম্যাচ জেতে নিউজিল্যান্ড।

২০০৩, সেঞ্চুরিয়ন : জহির খানের (৪/৪২) দারুণ বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড অলআউট হয় ১৪৬ রানে। জবাব দিতে নেমে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ কাইফ ও রাহুল দ্রাবিড়ের অবিচ্ছেদ্য ১২৯ রানের জুটিতে ভারত ম্যাচ জেতে ৭ উইকেটে। কাইফ ৬৮ ও দ্রাবিড় ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

২০১৯, ম্যানচেস্টার : ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড টস জিতে আগে ব্যাট করে। ৪৬.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২১১ রান তোলার পর ম্যাচে হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। তাতে খেলা গড়ায় রিজার্ভ ডেতে। পরের দিন বাকি ওভার ব্যাট করে কিউইরা তোলে ২৩৯/৮। জবাব দিতে নেমে ২৪ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত। একটা সময় স্কোর দাঁড়ায় ৯২/৬। তবে রবীন্দ্র জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। দলীয় ২০৮ রানের সময় বক্তিগত ৭৭-এ ফেরেন জাদেজা। শেষ দুই ওভারে দরকার ৩১ রান। ধোনি ক্রিজে ছিলেন তাই জয়ের আশা করছিল ভারত। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে ফার্গুসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে সেই আশায় হাওয়া লাগান ধোনি। তবে তৃতীয় বলে রানআউট হয়ে ফেরেন তিনি। গাপটিল বাউন্ডারি লাইনের কাছ থেকে থ্রোতে স্টাম্প ভাঙেন। পরে এটিই হয়ে থাকে ভারতের হয়ে ধোনির শেষ ইনিংস। একই ওভারে আউট হন ভুবনেশ^রও। শেষ ওভারে ২৩ রানের হিসাব মেলাতে পারেনি ম্যান ইন ব্লুরা। তিন বল বাকি থাকতে তারা অলআউট হয় ২২১ রানে। ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড।