সাংবাদিকদের ডিএমপি কমিশনার

২৮ অক্টোবর ঘিরে শঙ্কা তৈরি হলে কঠোর হস্তে দমন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপির ডাকা কর্মসূচির আড়ালে যদি কেউ সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, ঢাকার সোয়া ২ কোটি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করে, তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। গতকাল শনিবার মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত এমআরটি পুলিশের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপির কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের সংবিধানে যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন, মিছিল-মিটিং সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ নিরাপত্তাও দিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়াচ্ছে। শুধু ২৮ অক্টোবর ঘিরেই নয়, অন্য বিষয়েও ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। আমরা মনে করি, ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ গুজবের বিরুদ্ধে সচেষ্ট থাকবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গুজবকে উড়িয়ে দিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পারব। আমরা নজরদারির ভেতরে রেখেছি। আমাদের পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এ ব্যাপারে যেকোনো তথ্য যদি আমরা পাই, তবে ব্যবস্থা নেব। ২০১৩/১৪ সালে এ রকমই অপতৎপরতার চেষ্টা হয়েছিল। সেটি কেবল ঢাকা নয়, সারা দেশেই করা হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ পুলিশ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করেছে, পরাজিত হয়েছে সন্ত্রাসীরা। আগামীতে এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ ও পুলিশ একসঙ্গে প্রতিহত করা হবে।’

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় এমআরটি পুলিশ : ধারাবাহিকভাবে মেট্রোরেলের সব স্টেশনে এমআরটি পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলক দায়িত্ব পালন থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংশোধন, সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। মেট্রোরেলের ভেতরে এবং স্টেশনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে এমআরটি পুলিশ। সেই দক্ষতার জন্য তাদের দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এমআরটি পুলিশ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী ৪ নভেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল উদ্বোধনের পর সম্পূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশের নতুন এই ইউনিটটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মেট্রোরেলের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত এমআরটি পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক একজন ডিআইজির নেতৃত্বে ২৩১টি পদ সৃজন করা হয়। মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি যাত্রীবান্ধব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নে ২৩১ জন সদস্য অপ্রতুল বিবেচনা করে আইজিপি পুলিশের নির্দেশে অতিরিক্ত জনবলসহ মোট ৫৩৭ জন পদায়ন করা হয়েছে। 

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী এমআরটি পুলিশকে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এমআরটি পুলিশ প্রধান ডিআইজি জিহাদুল কবিরের নেতৃত্বে এ ইউনিটের সদস্যরা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে স্বতন্ত্র ডিভ সাইন ও জ্যাকেট, ট্যাকটিক্যাল বেল্ট, বডি ওর্ন ক্যামেরা, শর্ট আর্মসে সজ্জিত হয়ে হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী এবং মেট্রোরেলের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এমআরটি পুলিশ। মেট্রোরেলের মতো নতুন একটি কনসেন্টের নিরাপত্তায় উন্নত বিশ্বের পুলিশ কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে, সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য বৈদেশিক প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৯ অক্টোবর থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন, উত্তরা সেন্টার স্টেশন, উত্তরা সাউথ স্টেশনে ট্রায়াল বেসিসে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া স্টেশনসহ মোট ছয়টি স্টেশনের প্রতিটিতে একজন পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে প্রতি পালায় ১১ জনের একটি টিম মোট তিন পালায় মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।