সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ সামনে রেখে নেতাকর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সতর্কভাবে চলাফেরার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। মহাসমাবেশের প্রস্তুতি বিষয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত দলের যৌথ সভায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
মহাসমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ নেতাদের বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহাসমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশস্থল ত্যাগ করা এবং পরবর্তী কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
সভা শেষে বিএনপির একটি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহাসমাবেশ সামনে রেখে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ সামনে রেখে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা ভিড় করেছিলেন। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এবার কার্যালয়ের সামনে ভিড় না করতে বলা হয়েছে।
১৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ২৮ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
মহাসমাবেশের এই কর্মসূচি সফল করতে দলের নেতাদের নিয়ে করা যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘কর্মসূচি ঘোষণার পর মাত্র চার দিনেই ৪৮টি মামলা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি দিচ্ছে। এটা চরম দুর্ভাগ্যজনক। আসলে তারাও বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে এক হয়েছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করব। আশা করছি সরকার সমাবেশে কোনো ধরনের বাধা দেবে না। মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে তা এখনই বলা যাবে না। পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে মহাসমাবেশ থেকে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন যেহেতু ঢাকাকেন্দ্রিক, তাই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি নেতাদের দায়িত্ব বেশি। যৌথ সভা শেষে এখন থেকে প্রায় প্রতিদিনই মহানগরীর জ্যেষ্ঠ নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই নেতা জানান, যৌথ সভা শেষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম নয়াপল্টন থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলে গেছেন। সেখানে মহানগর নেতারা প্রস্তুতি সভা করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশনা দিচ্ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মহানগর নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, মহাসমাবেশ থেকে ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। সেটা নির্বাচন কমিশন কিংবা সচিবালয় হতে পারে। তবে সরকার মহাসমাবেশ বানচালের চেষ্টা করলে, ব্যাপকহারে নেতাকর্মীদের ধরপাকড় কিংবা পরিবহন বন্ধ করে দিলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে অন্যান্য দিনের মতো নেতাকর্মীদের ভিড় নেই।
যুবদলের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যৌথ সভা শেষে নেতাকর্মীরা যার যার মতো করে চলে গেছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে নেতাকর্মীরা চলে গেছেন।
যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ‘যৌথ সভা শেষে আমরা নিজেরা একটি বৈঠক করেছি। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের দেওয়া নির্দেশনা মেনে মহাসমাবেশ সফল করার জন্য কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আশা করছি, মহাসমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি আমরা নিশ্চিত করতে পারব। তবে সবচেয়ে বড় কথা মহাসমাবেশ ঘিরে সরকার ধরপাকড় চালাবে, সেটা এড়িয়ে চলতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করব।’
মহাসমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত শনিবার রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা শুরু করেছে।’