রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সমুন্নত রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করেছে কাজাখস্তান সরকার। এর প্রতিবাদে কোনো কোনো এলাকায় মেয়েরা স্কুলে যাওয়া কমিয়েছে। বই পুড়িয়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিজাব পরা ছবি প্রকাশ করেও চলছে প্রতিবাদ।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বলছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৭০ ভাগ মুসলমানের দেশ কাজাখস্তানে ১৬ অক্টোবর থেকে সব শিক্ষাঙ্গনে হিজাব নিষিদ্ধ। সেদিনই সরকারি ওয়েবসাইটে ‘নাগরিকদের জন্য’ শিরোনামের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন থেকে আর হিজাব পরা যাবে না, কারণ, এমন ধর্মীয় পোশাক বা চিহ্ন কোনো না কোনোভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো বা গোঁড়ামি প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে। সেখানে আরও জানানো হয়, ধর্মনিরপেক্ষ দেশের সরকারের দায়িত্ব সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা, কোনো ধর্মাবলম্বীদের কোনোভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া পুরোপুরিভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিবিরোধী। কিন্তু সরকার এ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই প্রায় দুই কোটি মানুষের দেশটিতে চলছে প্রতিবাদ।
কাজাখস্তানের শিক্ষামন্ত্রী গনি বাইসেমবায়েভ জানান, আতিরাউ অঞ্চলের স্কুলগুলোতে দেড়শর মতো ছাত্রী ইতিমধ্যে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে। এ ছাড়া হিজাব পরে ছাত্রীদের ঢুকতে না দেওয়ায় স্থানীয় এক স্কুলের এক নারী পরিচালককে দুই ব্যক্তির প্রহার করার খবর এসেছে তুর্কিস্তান থেকে। পাশাপাশি রাস্তায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রতিবাদ। তবে প্রেসিডেন্ট কাসিম-য়োমার্ত টোকায়েভ ও তার সরকার তারপরও স্কুলে হিজাব পরাকে শিক্ষার্থীদের অপরিহার্য অধিকার মানতে নারাজ। রাজধানী আস্তানায় শিক্ষকদের জাতীয় সম্মেলনে তিনি বলেছেন, স্কুল একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেখানে সবাই জ্ঞান আহরণ করতে যায়। কিন্তু ধর্মবিশ্বাসটা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের আইনে সবার জন্য ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিশুরা বড় হয়ে নিজেদের ভুবন থেকে নিলেই ভালো হয়। হিজাব নিয়ে যখন দ্বিধাবিভক্ত, তখন সমাধানের একটা পথ দেখানোর চেষ্টা করেছেন দেশটির সুপ্রিম মুফতি নাউরিজবায় কাজি তাগনুলি। তিনি মনে করেন, সাধারণ স্কুলগুলোতে হিজাব নিষিদ্ধ হলেও কেউ চাইলে একটা পর্যায় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরতেই পারে।