বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে চীন পাশে আছে উল্লেখ করে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কারিগরি সহায়তা দেবে চীন। চীন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখছে এবং আগামীতেও রাখবে।
গতকাল সোমবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ : চায়নার কেস স্টাডি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মাশফিক আহসান হƒদয়।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় বিভিন্ন ধরনের কো-অপারেশন হতে পারে। এ ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা শুধু বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগই আনবে না, পাশাপাশি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা পূরণে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি চীনের ‘বিআরআই’ কর্মসূচির দশ বছর পূর্তি হয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যারা বিআরআইয়ে অংশগ্রহণ করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহায়তা করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। চীনের ১ দশমিক ১ বিলিয়ন কিলোওয়াটের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৪০ শতাংশ, বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৩০ শতাংশ। আমরা জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ নিয়েও কাজ করছি। স্মার্ট বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এর আগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মাশফিক আহসান হƒদয় বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে একটি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগবান্ধব প্রণোদনা প্রয়োজন। জ্বালানি খাতে ২০২২ সালে ৩ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা তার আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বমানের প্রকল্প প্রোফাইল তৈরি করে ভেস্টাস, সিমেন্সের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ছাড়াও আরেকটি বিনিয়োগ আকৃষ্ট এজেন্সি তৈরি করা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি (পিপিপি পদ্ধতির অধীনে হতে পারে), বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ওয়ানস্টপ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিস সেন্টার, অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুবিধার্থে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে গ্লোবাল লিডার। অন্যদিকে বাংলাদেশ এর বিপরীতে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১১। চীনের এই উন্নতি থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। তবে তারা জানে না যে কীভাবে এই দেশে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেশে ছোট বিনিয়োগকারীরা রয়েছে, যারা ভ্যাট, ট্যাক্স-সংক্রান্ত ঝামেলায় পড়ছেন। আইনকানুনে অনেক জটিলতা রয়েছে, যেগুলোর কারণে বিনিয়োগকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। সে জায়গাগুলোতে নীতিনির্ধারকদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব নীতি কাঠামোকে ঠিক করতে হবে। অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।