ভয়াবহ যত ট্রেন দুর্ঘটনা

দেশে সড়কপথে বেশি দুর্ঘটনা জন্য অনেকেই নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্য রেলপথকে বেছে নেন। কিন্তু সেই ট্রেনযাত্রা হঠাৎই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। এমনই এক দুর্ঘটনা ঘটেছে গতকাল সোমবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। ভৈরব বাজার জংশনের আউটার সিগন্যালে যাত্রীবাহী এগারসিন্ধুকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কনটেইনারবাহী একটি ট্রেন পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে এগারসিন্ধু ট্রেনের দুটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের নিচে এখনো অনেকে চাপা পড়ে আছেন। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নানা সময়ে ঘটেছে বিভিন্ন প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা। দেশের ইতিহাসের আলোচিত কয়েকটি ট্রেন দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে টঙ্গীতে। দেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ এ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ওই দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৪০০ যাত্রী।

ঈশ্বরদীতে সেতু ভেঙে দুর্ঘটনা : ১৯৮৩ সালের ২২ মার্চ ঈশ্বরদীর কাছে একটা রেল সেতু পার হওয়ার সময় কয়েকটি স্প্যান ভেঙে পড়ে। নিচে শুকনো জায়গায় গিয়ে পড়ে ট্রেনের কয়েকটি বগি। এতে ৬০ জন যাত্রী নিহত হন।

খুলনায় আগুন ধরে দুর্ঘটনা : ১৯৮৫ সালের ১৩ জানুয়ারি খুলনা থেকে পার্বতীপুরগামী সীমান্ত এক্সপ্রেসের কোচে আগুন ধরে যায়। এতে ২৭ জন যাত্রী নিহত এবং ২৭ জন আহত হন।

সর্বহারা দলের নাশকতা : ১৯৮৬ সালের ১৫ মার্চ সর্বহারা দলের নাশকতায় ভেড়ামারার কাছে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে ২৫ যাত্রী নিহত এবং ৪৫ জন আহত হন।

হিলি ট্র্যাজেডি : ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি রাত সোয়া ৯টায় গোয়ালন্দ থেকে পার্বতীপুরগামী ৫১১ নম্বর লোকাল ট্রেনটি হিলি রেল স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ায়। এর কিছুক্ষণ পর সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী ৭৪৮ নম্বর আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনে ঢুকে পড়ে। এ সময় ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে গোয়ালন্দ লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি আন্তঃনগর ট্রেনের ওপর উঠে যায়। এতে দুটি ট্রেনের অর্ধশতাধিক যাত্রী নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক।

নরসিংদীর দুটি ঘটনা : ২০১০ সালে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘মহানগর গোধূলী’ ও ঢাকাগামী মেইল ‘চট্টলা’ ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চট্টলা ট্রেনের একটি বগি মহানগর ট্রেনের ইঞ্জিনের ওপর উঠে যায়। সেই দুর্ঘটনায় চালকসহ ১২ জন নিহত হন। এরপর ২০১৬ সালে নরসিংদীর আরশিনগর এলাকায় ভুল সিগন্যালের কারণে লাইনচ্যুত হয় তিতাস কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিল। এতে দুজন নিহত ও ১০ আহত হন।

টঙ্গীর রেল দুর্ঘটনা : ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাঁচজন নিহত হন। কমিউটার ট্রেনটি জামালপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। টঙ্গী এসেই ঘটে যত বিপত্তি। ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। টঙ্গীর নতুনবাজার এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক।

কুলাউড়ায় দুর্ঘটনা : ২০১৯ সালের ২৩ জুন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ : একই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হন।