‘হামুনে’ উত্তাল সাগর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় ‘হামুন’-এর প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। সোমবার থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কক্সবাজারকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখানো হয়েছে। আর উপকূলের বাসিন্দাদের সরিয়ে আনতে মাইকিং করছে প্রশাসন।

কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকে কক্সবাজার ও উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ২টা পর্যন্ত ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, সাগর উত্তাল। আর সেই উত্তাল সাগরে পর্যটকরা গোসল করছেন। কিন্তু ঝুঁকি থাকায় তাদের সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন। একই সাথে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সাগরে না নামতে মাইকিং করছেন, লাল পতাকা টাঙিয়েছেন। তবুও শুনছে না পর্যটকরা।

সী সেইভ লাইফ গার্ডের ইনচার্জ ইমতিয়াজ বলেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটকদের গোসলে নামতে নিষেধ করে মাইকিং করা হচ্ছে। অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু তারা শুনছেন না। অনেকে আবার রাগ করছেন।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে জুম মিটিং করে কক্সবাজার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। মিটিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, টেকনাফ, পেকুয়া, চকরিয়া, উখিয়া, কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে আনতে বলা হয়। এ লক্ষ্যে উপকূলীয় কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, টেকনাফসহ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মাইকিং করে নিচু এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নির্দেশনা না মেনে সেন্ট মার্টিনে অবস্থানরত আড়াই শতাধিক পর্যটকদের সর্তক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট মার্টিনসহ কক্সবাজারে অবস্থানরত পর্যটকরা যেন সাগরে গোসল করতে না নামেন তার জন্য প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে, এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সৈকতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিমা বিসর্জন। যে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সৈকতে বিকালে সমাগম হবে ২ লাখের বেশি মানুষের।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিসর্জনস্থল সিসিটিভি ও ড্রোন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি।